তিলোত্তমা বসুর একগুচ্ছ কবিতা

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ১৩:৪২

ঠক

সময় আমাকে কিছু বলতে কি চায়-
কানই দিই না... পরি না ঘড়িকে,
দেখি না তো ক্যালেন্ডার আমি

গোলাপি গোলাপি ময়েশ্চারাইজারের
কাছে হাত পাতি... শীতকাল হাসে খুব...
দেয় টিটকারি। বয়ে গেছে ভারি... 
জীবনে ঔষধি মানি ওকে
করেছি সেবন রোজ বিরহকে...

এই যে সূর্যাস্ত, এই যে ত্বকের থেকে
অল্প অল্প করে মুছে যাবে ভোর,
তবু  ইচ্ছের আরকে ভিজে থাকি...
সেই তো জানে না, যার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদি। 
সময় আমাকে খাদে ছুঁড়ে ফেলে দেবে-
যদি ভাবে, ভুল। 

চাতক পাখির ডাক আকাশকে ভাঙে 
ডাকতে ডাকতে  উড়ে যাব... 
সময়কে দেব ফাঁকি; পিঠে  কিল – 
রুমাল চুরির  খেলাতে আলতো ।

 


বন্ধুকে বলা কথা 


তখনো বুঝিনি আমি লাঠিখেলা বলে কাকে-
দুজন কিশোর শিষ দিয়ে উঠেছিল, ওহ ...
আমাকেই খেলতে খেলতে।

পাপড়িরা মেলে গেল তবু।
আমিও দেখেছি  বৃষ্টি- ভেজা রোদ এসে পড়ে
জীবনবিজ্ঞান বইয়ের পরাগে টরাগে...
কার নাম খুঁজি আমি , খুঁজেই পাই না  !
কে তবুও ছুঁয়ে দিয়ে আউট করেছে-
এলোটিন বেলোটিন রাজার বালিকা!
সারা মনে আঁচড়ের দাগ 
দিয়েছে শেকল তুলে ঘরে
স্নায়ুবৃক্ষ একাই যুঝেছে  ঝড়ে।

একদিন রাতে, সিঁদ কেটে, লেখারা আমাকে
বার করে এনে দেখিয়েছে , দেবদূত আসে !
দূরের শহর থেকে উড়ে কবিতায়, অসম্ভবে...
অন্য কষ্টে।


পাঠ 

 

ফুলস্টপ নয় সায়ন্তন...
চিবুকের তিল!
দাঁড়ি নয়, দীর্ঘশ্বাস।
প্রতিটি লাইনে 
বাড়িয়েছি হাত;
ছোট ছোট কবিতারা মন-
বিন্দুতেই সিন্ধুকে দর্শন।


মাঝারি মাপের কবিতা তো এ শরীর
যদি ছোঁও চোখ দিয়ে
বুনোফুল, উপত্যকা, 
পলিমাটির একটু নিচে জমাট রক্তের নীল–
বেল্টের দারুণ মার জেগে যদি ওঠে
উঠো না শিউরে!

দীর্ঘ কবিতারা উটের সারি-ই...
মরুকে ডিঙাতে চায়
গৃহস্থের কী আশ্চর্য বাঞ্জারাজীবন!

পাঠ করো কবিতাকে তুমি
টের পাই পাতায় পাতায়
ঋতুদের আঙুল বুলানো শিহরণ!

 

জুড়ান 


আগুনের কাছে গিয়ে বলি 
নাও দগ্ধতার লাল... 
এই নাও দহনের জ্বালা, 
আর্তনাদ... 

আগুন কি জল হয়ে যায়? 
হতে পারে? 
সূর্যের চুল্লির থেকে 
অশ্রু বয়ে যায় 
নয়তো কিভাবে? 

জনপদ এভাবেই হয়েছে সবুজ 
আর ভূমিও ঊর্বরা 
আমিও জুড়িয়ে যাব একদিন 
ডাকব না মনে মনে আর... 
বহুদিন পর মাটি খুঁড়ে 
পাওয়াও যেতে পারে 
লৌহআকরিক, ক্ষার।

লেখা পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]