স্লুইস গেট খোলার চেষ্টা চলছে
মেহেরপুর প্রতিনিধি
দাদপুর বিলের স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় থেকে সাত ফুট বেশি উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের ১০ থেকে ১২ গ্রামের জমির ফসল। এদিকে স্লুইচ গেট খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দেখা গেছে, কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে বিলটির পানি স্বাভাবিকের থেকে ৬/৭ ফুট উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আশেপাশের গ্রামের জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিলটির প্রবেশমুখে কেটি স্লুইস গেটের মাধ্যমে ভৈরব নদের থেকে পৃথক করা হয়েছে। স্লুইচ গেটটি খুলে দিলে বিলের পানি ভৈরব নদে মিশে গেলে ফসলের ক্ষতি থেকে কৃষকরা মুক্ত হয়।
গোপালপুর গ্রামের কামরুল হাসান, নজরুল ইসলাম, খন্দকার মুনতাজ, বশির আহমেদ, আকুল মণ্ডল জানান, গোপালপুর গ্রামে প্রায় কয়েক হাজার বিঘা জমিতে ধান, পাট, সবজির চাষ আছে। যেগুলো ডুবে যাওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় চাষি জামিরুল ইসলাম জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন বিল সংলগ্ন ইছাখালীর মাঠে। তার পুরো ধান পানির নিচে ডুবে আছে। দুই-একদিন থাকলেই সব মরে যাবে।
গোপালপুর গ্রামের দয়াল জানান, তার মরিচ ও কলা খেতে দুই ফুট করে পানি জমে আছে। সাইদ জানান, তার সিম, মরিচ, পেপে চাষ রয়েছে। গোপালপুর গ্রামের মিঠুন জানান, তার সাড়ে চার বিঘা জমিতে আবাদি ফসল সব ডুবে গেছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম জানান, স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে এটা শুনেছি। উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বিশ্বাসকে পানি ছাড়ার ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। পানি জমে থাকার কারণে বহু জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যে স্লুইস গেট খুলে না দেওয়া হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পাঁচটি গেটের মধ্যে তিনটি গেট যে কোনো উপায়ে খুলতেই হবে। গেট খুলতে মিস্ত্রিরা কাজ করছে। আমি বিষয়টি তদারকি করছি।
