বিপণিবিতানে উপচে পড়া ভিড়, করোনা
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। শহরের মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। ফুটপাতেও চলছে হকারদের ধুম বেচাকেনা। তবে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কারোরই করোনা সংক্রমণের বিষয়ে কোনো সচেতনতা নেই। কেনাকাটা করতে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। একই অবস্থা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ধীরে ধীরে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। হটস্পট থেকে সরে আসছে বলেও দাবি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। একই সঙ্গে ঈদুল আজহাকে ঘিরে কেনাকাটা, পশুর হাট, গ্রামের বাড়িতে যাওয়াসহ নানা দিক বিবেচনায় পরিস্থিতি ধরে রাখতে পারবেন কি না সে আশঙ্কাও প্রকাশ পেয়েছে জেলা সিভিল সার্জনের কথায়।
করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে প্রশাসনের কড়াকড়ি কিংবা সংক্রমণের ভীতি থেকেই হোক মানুষের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা দেখা দিয়েছিল। অথচ গতকাল বিকালে দেখা যায়, যানবাহন ও মানুষে গিজগিজ করছে শহর। অন্য স্বাভাবিক সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মতোই মানুষের আনাগোনা ছিল শহরে। ঈদুল আজহার কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বিপণিবিতানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেছে হকাররা, চলছে ধুম বেচাকেনা। চাষাঢ়া শহিদ মিনারে দেখা গেছে, আড্ডাপ্রিয় মানুষের ঢল। অধিকাংশই মানছেন না সামাজিক দূরত্ব কিংবা মাস্ক পরার মতো স্বাস্থ্যবিধি। এমন অবস্থায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে শহরের মার্কেটগুলোর সামনে লাগানো জীবাণুনাশক টানেল যেন কেবল নিয়ম রক্ষার জন্য লাগিয়ে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ টানেলই অকেজো। অকেজো টানেলগুলো ফুটপাতে মানুষের চলাচলে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু কিছু মার্কেটের সামনে দিনের একটা অংশে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হলেও বাকি সময়ে তা চোখে পড়ে না। শুধু দোকান মালিক কিংবা বিক্রয়কর্মীই নন ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা নেই ন্যূনতম সচেতনতা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অন্তত মাস্ক পরার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। এর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালান করা হয়েছে। কিন্তু মাস্ক পরার বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে মানুষের।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গা ছাড়া ভাব রয়েছে। চাষাঢ়ায় নিউ সমবায় মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছেন তরুণী নিশা। তিন বছরের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। নিজে বোরকা পরেছেন এবং নাক-মুখ ঢেকেছেন নেকাবে। কিন্তু শিশুর জন্য নেই কোনো সুরক্ষাসামগ্রী। তিনি বলেন, মায়ের বাসা থেকে ফেরার সময় ভাবলেন বাচ্চার জন্য কিছু কিনবেন। রিকশা থেকে নামার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে বাচ্চার মাস্ক বাসা থেকে নিয়ে আসেননি। জেলায় করোনা পরিস্থিতির যখন উন্নতি হচ্ছে তখন মানুষের অসচেতনতার কারণে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচল বাড়বে। পশুর হাটে লোক সমাগম বেশি হলে, ঈদ জামাতে নির্দেশনা না মানলে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা আছে। সকলের প্রতি একটাই নির্দেশনা, যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে।
