সানেমের ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে প্রবৃদ্ধি হলেও সে হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের শ্রমবাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। প্রণোদনা শুধু বড় ব্যবসা বা তারল্যের জন্যই না, এর মাধ্যমে চাকরি ও কর্মসংস্থানের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। গতকাল সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর আয়োজনে ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সানেমের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ভার্চুয়াল এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) অধ্যাপক শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুয়োমো পুটিয়ানেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।
সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক শামসুল আলম শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত বাংলাদেশ সরকার গৃহীত নীতিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী যে পরিমাণে কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেই পরিমাণে কর্মসংস্থান তৈরি হয় নি। মূল প্রবন্ধে ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, কর্মসংস্থান ও আয়ের যে সংকট সেটির মাত্রা বা গভীরতা নির্ভর করছে চলমান সংকট কত দিন থাকবে তার ওপর। তিনি বলেন বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কম হলে এবং রোগ সংক্রমণের হার উচ্চ থাকলে, ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে। মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রধান বাধা হচ্ছে দেশীয় অর্থায়নের অভাব। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দা, রপ্তানি চাহিদা ও বাণিজ্য আত্মবিশ্বাসে ধস একটি বড় কারণ। বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণের শর্ত শিথিল করা ও সুদের হার কমানোর প্রস্তাব করেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজ ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ না করে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা, প্রবাস থেকে ফেরত আসা, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য আলাদা ঋণের ব্যবস্থা করা অন্যতম। আলোচনায় সানেমের চেয়ারম্যান ড. বজলুল হক খন্দকার বলেন, মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক নীতি অন্য দেশের তুলনায় শক্তিশালী নয়। সামাজিক সুরক্ষার ইস্যুগুলোকে আলোচনায় আনা দরকার।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের সামনে এখন তিনটি চ্যালেঞ্জ, কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার ঠেকানো, কর্মসংস্থান ও জীবিকা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। মহামারি পরিস্তিতির উন্নতি না হলে বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে না। তিনি বলেন, চীন থেকে সরে আসা বিনিয়োগগুলোকে আকৃষ্ট করা বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কৌশলের অংশ হওয়া উচিত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বিতরণের জন্য তাগাদা দেন তিনি।
ড. ইমরান মতিন বলেন, শ্রমবাজার নিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় আইসিটি ভিত্তিক বাজারে শ্রম প্রবাহ বিবেচনায় রাখা উচিত। উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফরম গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন তিনি।
ড. সেলিম রায়হান বিশ্লেষণ করে দেখান যে, প্রবৃদ্ধি হলেও, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। শ্রমবাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী না। সরকারের পক্ষ থেকে একটি শ্রম ও কর্মসংস্থান কমিশন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, টুয়োমো পুটিয়ানেন সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রণোদনা শুধু বড় ব্যবসা বা তারল্যের জন্যই না, এর মাধ্যমে চাকরি ও কর্মসংস্থানের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে হবে।
