‘শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইস একটি প্রতিবন্ধকতা’

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ২১:৫৭

বিনিয়োগ সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে আইসিবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শেয়ারবাজারে সম্প্রতি বহুল আলোচিত ফ্লোর প্রাইসের নামে শেয়ারদরের সীমা নির্ধারণ করা নিয়ে বেশকিছু দিন ধরেই কথা হচ্ছে। গতকালও এক আলোচনায় ইস্যুটি উঠেছে। এতে বাজার সংশ্লিষ্টরা বাজারের স্বাভাবিক চলাচলে ফ্লোর প্রাইস নির্ধানের নামে নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস একটি প্রতিবন্ধকতা, এটা ঠিক। বাজারকে ঠিকভাবে চলতে দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে যথাশিগিগরই ব্যবস্থা নেব।

ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হুসাইন বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মার্কেটে তারল্যের মন্দাবস্থা চলছে। এ কারণে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।  ‘শেয়ারবাজারে করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রভাব ও পুনরুদ্ধারের উপায়’ শীর্ষকঐ সংলাপের আয়োজন করে যৌথভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), এমসিসিআই, বিল্ড, ডিসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা শেয়ারবাজারে সুশাসনের অভাব, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির ঘাটতি, বিদ্যমান কর কাঠামো, গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে সামঞ্জস্য না থাকাসহ বেশকিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এ সময় বিএসইসি চেয়ারম্যান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে বলেন, যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আসেন, তারা ভালো আছেন। তবে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তারা বড় ধরনের টাকা বিভিন্ন পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ করেন এবং শেয়ার দর বাড়িয়ে অল্প সময়ে বিক্রি করে টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে তাদেরকে স্বাগত জানাই। কিন্তু ম্যানপুলেশনের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা কঠোর। তিনি বলেন, মুদ্রা বাজার বন্ধ না থাকলে শেয়ারবাজার কখনো বন্ধ থাকে না। আমি যতদিন দায়িত্বে আছি, মুদ্রাবাজার বন্ধ না হলে শেয়ারবাজার বন্ধ হবে না। শিগিগরই বাজারে লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশার কথা জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা করে যে আসার কথা, সে বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি ব্যাংক এই ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য পর্ষদে পাশ করিয়ে ফেলেছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে সবগুলো ব্যাংকই বিনিয়োগ নিয়ে আসবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এমসিসিআইর সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আনার জন্য সহায়ক নীতিমালার ঘাটতি রয়েছে জানিয়ে এটি সমাধান করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার মতো কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম বলে অভিযোগ করে। পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি না আসার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে রয়েছে সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়া। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আছে। শেয়ার বিক্রি না করার জন্য ফোন দিয়ে নির্দেশ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউজ গ্রাহকের নির্দেশে শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য। আগামীতে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে তুলতে হবে।

আইসিবির এমডি আবুল হোসেন, ২০১০ সালের ধস শুরুর পর থেকেই আইসিবি বিনিয়োগ করে আসছে। নিজের ব্যবসার কথা চিন্তা না করে শুধু শেয়ারবাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন এসে দেখা গেল, আইসিবি বিনিয়োগ সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সঞ্চয়ের হার ভালো। কিন্তু বিনিয়োগে তার প্রতিফলন নেই। তিনি নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডিএসইর এমডি কাজী সানাউল হক, সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম ও এমডি মামুন-উর রশীদ, ডিবিএ সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি আজম জে চৌধুরী, বিল্ডের চেয়ারম্যান ও ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান প্রমুখ।