করোনা মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা
আসায় অর্থছাড়ে ঊর্ধ্বগতি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
গেল ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রেকর্ড ৭২৭ কোটি ডলার ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্থছাড় করল উন্নয়ন সহযোগীরা। সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭১০ কোটি ডলার ছাড় করার। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি হলেও মূলত করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা দেওয়ায় অর্থছাড়ে এই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ৬৫৪ কোটি ডলার ছাড় করা হয়েছিল। গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছাড় করা অর্থের পরিমাণ আগের অর্থবছরের চেয়ে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, কোভিড-১৯ অতিমারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংকট থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো সরকারকে বাজেট সহায়তা হিসেবে বড় আকারের অর্থছাড় করেছে। ইআরডির সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস অর্থাত্ জুন মাসে ২০৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে। এর আগের ১১ মাসে ছাড় হয়েছিল ৫২৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারকে বাজেট সহায়তা হিসেবে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫০ কোটি ডলার, বিশ্বব্যাংক ২৫ কোটি ডলার এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ২৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর বেশিরভাগ জুনের মধ্যে ছাড় হয়েছে। ফলে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়ে রেকর্ড হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প প্রণয়ন করে একনেকে অনুমোদনের পর কাজ শুরু করতে করতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ অনুমোদন, বিভিন্ন শর্ত মানাসহ চুক্তি করে অর্থছাড় দীর্ঘসূত্রতার বিষয়। তবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীরা দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। বাজেট সহায়তা পেতে আগের মতো কঠিন শর্ত দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ধরে রাখতে বড় আকারের তহবিল ঘোষণা করেছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবির মতো উন্নয়ন সহযোগীরা। এজন্য দ্রুত অর্থছাড় হয়েছে। গত এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত তিন মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে বাজেট সহায়তা এবং প্রকল্পে ব্যয় করার জন্য ৩১০ কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। আরো প্রায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তা পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানা যায়।
