খুলনায় চার হত্যাকাণ্ড

সন্ত্রাসী জাকারিয়ার ভাই জাফরিন গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ২২:৪৪

খুলনা অফিস

খুলনায় চাঞ্চল্যকর চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল হোতা বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এবং জাকারিয়া বাহিনীর প্রধান জাকারিয়ার অন্যতম সহযোগী ও তার ছোট ভাই জাফরিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গতকাল শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দাঁতপুর গ্রাম থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে সন্ত্রাসী জাকারিয়া ও তার অপর দুই ভাই এখনো পলাতক রয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার পর থেকে মশিয়ালী গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা।

স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন ও মুজিবর নামে নিরীহ এক ব্যক্তিকে অস্ত্র দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী শেখ জাকারিয়া বাহিনীর গুলিতে নজরুল ইসলাম, গোলাম রসুল ও সাইফুল   ইসলাম মারা যান। পরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে জাকারিয়ার চাচাতো ভাই শেখ জিহাদ মারা যান। ঘটনার পর সন্ত্রাসী জাকারিয়া ও তার অপর তিন ভাই জাফরিন, মিল্টন ও কবির আত্মগোপন করেন। এদের মধ্যে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি জাফরিনকে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করে।

মশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জাকারিয়াদের চার ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই জাকারিয়া, জাফরিন ও মিল্টন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা মূলত খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলামকে ব্যবহার করেই এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় আটরা-গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামও তাদের মদত দিয়ে আসছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব, অবৈধ অর্থবিত্ত ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে তারা গ্রামবাসীর  ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাত। বিপক্ষে গেলেই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে হয়রানি করত। গত বৃহস্পতিবার বিকালে সর্বশেষ তারা নিরীহ মুজিবরকে অস্ত্র দিয়ে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ওসিকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তারা বলেন, জাফরিন ও জাকারিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। জাকারিয়া ও জাফরিন বাহিনীর ভয়ে অনেকেই এলাকা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, ওসি শফিকুল ইসলামের দায়িত্বহীনতার কারণেই গত বৃহস্পতিবার রাতে জাকারিয়া বাহিনীর গুলিতে তিন জন নিরীহ গ্রামবাসী ও অপর একজন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। ওসি যদি আগে থেকে ব্যবস্থা নিতেন তাহলে চার চারটি মানুষ মরত না। তারা সন্ত্রাসী জাকারিয়া, জাফরিন ও মিল্টনের পাশাপাশি খানজাহান আলী থানার ওসি শফিকুল ইসলামের অপসারণ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামেরও শাস্তির দাবি করেন।

মশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দারা আরো বলেন, জাকারিয়ারা এলাকার বড় সুদের কারবারি। ১০০ টাকায় তারা প্রতি মাসে ১০ টাকা করে সুদ আদায় করত। কেউ নির্ধারিত সময়ে সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তারা তাকে নির্যাতন করত। আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার খন্দকার লুত্ফুল কবির জানান, গতকাল মশিয়ালী গ্রামের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল হোতা সন্ত্রাসী জাকারিয়ার অন্যতম সহযোগী ও তার আপন ছোট ভাই শেখ জাফরিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সোনালী সেন জানান, অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।