ঊনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
মিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
বৃটিশ শাসন
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন-: বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীর, সূর্যসেন,প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরাম কী অবদান রেখেছিলেন?
উত্তর: আঠারো শতকের শেষ ভাগ থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত বাংলায় একাধিক বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন হয়েছে। এসবের মধ্যে তিতুমীর, সূর্যসেন,প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরামের বিদ্রোহ উল্লেখযোগ্য।
তিতুমীরের অবদান: বাংলার কৃষক,তাঁতি ও সাধারণ মানুষ বৃটিশ ও জমিদারদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করতে তিতুমীর ভারতের পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসাতের নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ১৮৩১ সালে যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি মারা যান।
সূর্যসেনের অবদান: চট্টগ্রামে সূর্যসেনের নেতৃত্বে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন পরিচালিত হয়। তিনি বিপ্লবীদের অস্ত্র ও গোলা বারুদ তৈরির প্রশিক্ষণ দেন। ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের মাধ্যমে সূর্যসেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন জাগিয়ে তোলেন। বৃটিশ সরকার সূর্যসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।
প্রীতিলতার অবদান: মাস্টার দা সূর্যসেনের সহযোদ্ধা ও বৃটিশ সংগ্রামের প্রথম আত্মোত্সর্গকারী নারী ছিলেন প্রীতিলতা। ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ,টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন অফিস ধ্বংসে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন।
ক্ষুদিরাম:ক্ষুদিরাম ছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সর্বকনিষ্ঠ বিপ্লবী। ইংরেজ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বোমা হামলার অপরাধে ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রীতিলতা ও ক্ষদিরামের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা চিরস্মরণীয়।
প্রশ্ন: বাংলায় নবজাগরণের পাঁচটি ফলাফল লিখ।
উত্তর: শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে ঊনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে।
বাংলায় নবজাগরণের ফলাফল:নবজাগরণের ফলাফল নিম্নে দেওয়া হলো:
১. আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণে মুসলমানরা সচেতন হয়ে ওঠে।
২. হিন্দু কলেজ সব ধর্মের ছাত্রের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
৩. বাংলায় প্রথম হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন ও সতীদাহ প্রথা বন্ধ হয়ে যায়।
৪. মুসলমানদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে।
৫. রেলগাড়ি, টেলিগ্রাফ ও ছাপাখানার প্রচলন ঘটে।
