ফুটবলারদের শৃঙ্খলায় রাখতেই গাজীপুরে ক্যাম্প

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ২০:৪২

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ছিল অনুশীলনের জন্য। সব দুয়ার বন্ধ রেখে অনুশীলন করা যেত নিশ্চিন্তে। ফুটবলারদের ক্যাম্প করা যেত বাফুফে ভবনে। ক্যাম্পও ফাঁকা ছিল। মেয়েদের অনুশীলন ছিল না। সব কিছু থাকার পরও জাতীয় ফুটবলারদের ক্যাম্প ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো। সেই গাজীপুরে বিনোদনের জন্য গড়ে উঠা রিসোর্টে ক্যাম্প ডাকা হয়েছে।

এখানেই বাফুফের সাধারণ সভা হয়েছিল। সভার আগের দিন কাউন্সিলররা সেখানে অবস্থান করেছেন। পরদিন সকালে হিমহিম ঠান্ডার মধ্যে সাধারণ সভায় যোগ দিয়েছিলেন কাউন্সিলররা। সেখানকার মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ হবেন বাফুফের লোকজন। এসবই ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু জাতীয় ফুটবল দলের জন্য এমন বিনোদন কেন্দ্র বেছে নেওয়া হলো কেন ? কেন এমন সিদ্ধান্ত। এর জবাবে বাফুফে বলছে, শৃঙ্খলার বিষয়। ফুটবলারদের শৃঙ্খলায় রাখতেই গাজীপুরের ক্যাম্প। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম রয়েছে। ফুটবল ভবন রয়েছে। তবে এখানে ক্যাম্প করা হলে খেলোয়াড়দের অবাধে চলাফেরাটা সহজ হয়ে যেত। এখন সেই সময় নেই, আপনি জাতীয় দলের ফুটবলারদের পাহারা দিয়ে রাখবেন। আমরা চাই, একটা শৃঙ্খলার মধ্যে সবাইকে রাখতে। এই সংক্রমণের সময়ে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। স্বাস্থ্যগত সুবিধা এখানকার চেয়ে ওখানে বেশি বজায় রাখা যাবে।’  

রিসোর্টে সাধারণ অতিথিদের যাওয়া-আসা থাকবে। মাঠও ফুটবল খেলার মতো নয়। ফুটবল খেলতে হলে যেভাবে মাঠের পরিচর্যা দিয়ে গড়ে তুলতে হয় সেটা নেই। অতিথিদের সৌখিনতার জন্য করা হয়েছে। একটা দেশের জাতীয় দল যেখানে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে লড়াই করতে যাবে, সেখানে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য কেনই বা এমন হেলাফেলা সিদ্ধান্ত। যারা রিসোর্ট গড়েছে তারা নিশ্চই ফিফার নিময়কানুন মাথায় রেখে ফুটবল মাঠ গড়েনি। সাদাচোখে দেখলে বলা যায়, একটা সবুজ মাঠ থাকবে। শখের বসে কেউ খেলতে চাইলে মাঠে নামতে পারবে। এই কথায় আপত্তি না থাকলেও সোহাগ বলেছেন, ‘মাঠ ফিফার মাপেই আছে। আর আমাদের লোকবল গিয়ে মাঠের পরিচর্যা করে খেলার উপযোগী করে তুলবে। কর্নার ফ্ল্যাগ, মাঠের মার্কিং, গোলপোস্ট স্থাপনসহ বেশ কিছুর কাজ আমরা করে নিচ্ছি। আর খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। রিসোর্টে আধুনিক এবং মানসম্পন্ন ব্যবস্থা খেলোয়াড়দের মুগ্ধ করবে। এদিক ওদিক ছুটোছুটি করার সুযোগ থাকবে না। এটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একটা ব্র্যাকেটের মধ্যে থাকবে।’

আগামী ৭ আগস্ট ক্যাম্প শুরু। জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্দেশ দিয়েছে খেলোয়াড়রা যেন নিজ উদ্যোগে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে ক্যাম্পে ঢোকেন। তারপরও ক্যাম্পে আরেক দফা কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হবে। খেলোয়াড়রা সেখানে যতক্ষণ থাকবেন স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরে থাকবেন। আগস্টের মাঝামাঝি বিদেশি কোচিং স্টাফ ঢাকায় আসলে তখন তারাও আইসোলেশনে চলে যাবেন। গাজীপুরের রিসোর্ট ভাড়া নিতে গিয়ে বাফুফেকে বড় অংকের অর্থ দিতে হবে। সেটা কত? আবু নাঈম সোহাগ বললেন, ‘আগামীকাল বলব।’