চট্টগ্রাম শহর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় কোয়ালিটি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের জন্য আনোয়ারা থেকে নগরীর আনন্দ বাজার পর্যন্ত ৪০০ কেভি বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরু হচ্ছে। একইভাবে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান ১৩২ কেভি (কিলো ভোল্ট) লাইনকে ২৩০ কেভি লাইনে উন্নীত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামে বর্তমানে প্রায় ১২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুত্ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর শতকরা ১০ ভাগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে বর্তমানে ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন রয়েছে। যা দিয়ে আগামীতে কোনোভাবেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। সেক্ষেত্রে নগরীর বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন ২৩০ কেভিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর দাশ জানান, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির প্রতি লক্ষ্য রেখে সরকার স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে সঞ্চালন লাইন শক্তিশালী করণের উদ্যোগ নিয়েছে।
জেলার আনোয়ারা থেকে কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নগরীর হালিশহর আনন্দ বাজার সাবস্টেশন পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পর ঐ স্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের সাহায্যে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে। এতে করে বর্তমানে শহরে বিদ্যুতের লোডশেডিং কিংবা অপ্রতুল বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মকর্তাগণ জানান।
গত বছরের ৯ জুলাই একনেক বৈঠকে উক্ত সঞ্চালন লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সঞ্চালন লাইন ওভার হেড এবং আন্ডার গ্রাউন্ডে আনন্দ বাজার পর্যন্ত নেওয়া হবে বলে জানা যায়। আনোয়ারা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের ৫নং গেইট পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার পর্যন্ত ওভার হেড এবং বন্দরের ৫নং গেইট থেকে নিউমুরিং হয়ে আনন্দ বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড সঞ্চালন লাইন যাবে। উক্ত সঞ্চালন লাইনের জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) চট্টগ্রাম বন্দরের ৫নং গেইট এলাকায় ২ হাজার ৭২৮ বর্গমিটার জায়গা চেয়েছে। বন্দরের নিকট থেকে জায়গা পাওয়ার পর সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরু হবে। কারণ ইতিমধ্যে আনন্দ বাজার সাবস্টেশনের নির্ধারিত জায়গা পাওয়া গেছে। এদিকে জেলার হাটহাজারী থেকে শহরের রামপুরা সাবস্টেশন পর্যন্ত ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের কাজ করার উদ্যোগ বহু পূর্বে শুরু করা হয়। কিন্তু শহরের ঘনবসতির জন্য সঞ্চালন লাইন বসানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এলাকায় কয়লাসহ অন্যান্য মাধ্যমে উত্পাদিত বিপুল সংখ্যক বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে নেওয়ার জন্য মদুনাঘাট পর্যন্ত ৪০০ কেভি বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মদুনাঘাট থেকে ঐ সঞ্চালন লাইন মেঘনা ঘাট পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে পৌঁছাবে। বিদ্যুত্ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুত্ স্থাপনার জন্য উপযুক্ত জায়গা পাওয়া গেলে সঞ্চালন লাইন স্থাপনায় বেশি সময় প্রয়োজন হবে না।
