ঈদবাজার ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ২৩:১৮

বাঙালি উত্সবপ্রিয় জাতি। উত্সব না থাকিলেও তাহারা অনেক সময় উত্সবের উপলক্ষ্য খুঁজিয়া বেড়ান। নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু পরিবেশ ভালো পাইলে সেইটিকেও তাহারা উত্সবে পরিণত করেন। সেই বাঙালি জাতি করোনা মহামারির কারণে গত প্রায় পাঁচ মাস ধরিয়া উত্সব হইতে বঞ্চিত। তাহারা ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস সঠিকভাবে পালন করিতে পারেন নাই। তাহার আগে মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী লইয়া নানা ঢাকঢোল পিটানো হইলেও তাহাও পরিকল্পনামাফিক উদ্যাপন করা সম্ভব হয় নাই। মনের মাধুরী মিশাইয়া পালন করা যায় নাই আবহমান বাংলার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি পহেলা বৈশাখ। যেই ঈদুল ফিতরকে সম্মুখে রাখিয়া বাঙালি মুসলমান সমাজে এক মাস আগে হইতেই সাজ সাজ রব পড়িয়া যায়, সেই ঈদুল ফিতরও উদ্যাপিত হইয়াছে নানা বিধিনিষেধ অনুসরণ করিয়া। সংগত কারণে এই দেশের মানুষ করোনার আতঙ্কে একপ্রকার শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে বসবাস করিতেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আর কয়েক দিন পরই আসিতেছে আরেক উত্সব ঈদুল আজহা। তবে এই উত্সবকে কেন্দ্র করিয়া মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙিয়া যাইতেছে। তাহারা আস্তে আস্তে ঘরের বাহিরে চলিয়া আসিতেছেন। গতকাল ইত্তেফাকে রাজধানীর যানজটের একটি আলোকচিত্র ছাপা হইয়াছে। ইহাতে বুঝা যায়, ঈদের আগে গ্রামের বাড়ি যাওয়া এবং ঈদের বাজার করিবার জন্য এই দেশের মানুষ আজ অস্থির হইয়া উঠিয়াছেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাস্তাঘাটে মানুষের এই চলাফেরা বাড়িলেও স্বাস্থ্যবিধি কি অনুসৃত হইতেছে যথাযথভাবে? গত মাসে গণপরিবহন খুলিয়া দেওয়া হয়। সেই গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি এখন অনেকটা শিথিল হইয়া পড়িয়াছে। এই সংক্রান্ত অভিযান বা প্রচারণাও কমিয়া গিয়াছে। গতকাল প্রকাশিত ইত্তেফাকের একটি রিপোর্টের শিরোনাম এই রকম :‘নারায়ণগঞ্জে ঈদবাজারে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই’। রাজধানী ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জ একসময় করোনার হটস্পটে পরিণত হইয়াছিল। সেখানে ইহার প্রকোপ কিছুটা কমিয়া আসিলেও একেবারে দূর হইয়াছে, এমনটি দাবি করিবার সুযোগ নাই। কিন্তু এখানকার বিপণিবিতানগুলিতে উপচাইয়া পড়া ভিড় ঠিকই পরিলক্ষিত হইতেছে। এই ভিড়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি অনেকে বেমালুম ভুলিয়া যাইতেছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকে মাস্ক পরিধান করিতেছেন না। মানা হইতেছে না সামাজিক দূরত্ব। শহরের মার্কেটগুলির সামনে লাগানো অধিকাংশ জীবাণুনাশক টানেল এখন অকেজো। জীবাণুনাশক স্প্রে করিবার দৃশ্যও যেন বিরল হইয়া পড়িতেছে। শিশুদেরও ঈদবাজারে আনা হইতেছে, অথচ তাহাদের মুখে নাই কোনো মাস্ক। ইহা শুধু নারায়ণগঞ্জ নহে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শহরেও দেখা যাইতেছে একই চিত্র। ইহাতে করোনার সংক্রমণ বাড়িয়া যাওয়ার আশঙ্কা করা হইতেছে।

করোনা মহাদুর্যোগ পৃথিবী হইতে কবে বিদায় নিবে তাহা কেহ নিশ্চয়তা দিয়া বলিতে পারিতেছেন না। এই জন্য ঈদুল আজহা সামনে রাখিয়া দেশের ঈদবাজার, শপিংমল, কোরবানির পশুর হাট, ফুটপাতের বাজার প্রভৃতি স্থানে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হইতেছে কি না, তাহার ব্যাপারে নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। প্রয়োজন এই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাড়াইয়া দেওয়া, জেলা প্রশাসনের পক্ষ হইতে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া। তাহা ছাড়া ঈদের আগে ও পরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে আমাদের সকলেরই আরো সচেতন হওয়া উচিত। আমরা আশা করি, পবিত্র ঈদুল আজহার পর করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে হইলেও স্বাভাবিক হইয়া আসিবে।