বাংলাদেশ বিমানের পথচলা এবং আজকের অবস্থান

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ২৩:১৮

স্বাধীনতা আর মুক্ত আকাশ সবারই কাম্য। সদ্য স্বাধীন বাঙালি জাতি বোধ করি তাকিয়ে ছিল আকাশ পানে—কল্পনা করেছিল একটি স্বাধীন এয়ারলাইনসের। বাঙালি জাতির সে স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে তিনটি উড়োজাহাজ নিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিউক্লিয়াস খ্যাত ‘কিলো ফ্লাইট’ আকাশ থেকে আক্রমণের মাধ্যমে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল সেই কিলো ফ্লাইটের একটি বিমান ছিল ডিসি-৩ ডেকোটা।

এই পরিবহন বিমানটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ বিমানকে’ উপহার হিসেবে প্রদান করেন এবং অন্য দুটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারফোর্সকে দেওয়া হয়, যার একটি এয়ারফোর্সের জাদুঘরে এবং অন্যটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এখনো সংরক্ষিত আছে। ডিসি-৩ ডেকোটা বিমান, যা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ বিমানকে দিয়েছিলেন, তা দিয়েই ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সয়ের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অল্প কদিন পরে অর্থাত্ ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ ডিসি-৩ ডেকোটা বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের মার্চ মাসের শুরুতে ভারত সরকারের ঋণের মাধ্যমে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স থেকে দুটি এফ ২৭-২০০ উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হয়। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ চট্টগ্রাম ও সিলেটে যাত্রার মাধ্যমে বিমান অভ্যন্তরীণ রুটে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ৯ মার্চ থেকে যশোরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়। তবে ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে ব্রিটিশ ক্যালিডোনিয়ানের একটি চার্টার ফ্লাইটে লন্ডন থেকে ১৭৯ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে সংস্থাটির আকাশযাত্রা শুরু হয়। একই বছরে নেদারল্যান্ড সরকারের অনুদানে দুটি এফ ২৭-৬০০ বিমান সংগ্রহ করা হয় এবং পরবর্তী বছর অর্থাত্ ১৯৭৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান সরকার দুটি এফ ২৭-২০০ বিমান উপহার দিয়েছিল। ১৯৭৩ সালে হল্যান্ডের ফকার কোম্পানি থেকে দুইটি এফ ২৭-৬০০ উড়োজাহাজ এবং যুক্তরাজ্য থেকে প্রথম বোয়িং ৭০৭-৩২০ সি নগদ মূল্যে ক্রয় করা হয়। এমনিভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের বিমানসংস্থার জন্য উপহার, অনুদান কিংবা সহজ শর্তে ঋণে উড়োজাহাজ সংগ্রহ, সর্বোপরি নগদ অর্থে উড়োজাহাজ ক্রয়ের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে বিমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে বিমানকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বিমানের উড়োজাহাজ বহর আধুনিকায়ন :২০০৭ সালে বাংলাদেশ বিমান করপোরেশনকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড নামে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করা হয়। বিমান বহর আধুনিকায়নে মনোযোগী হয় বিমান পরিচালনা পরিষদ এবং ব্যবস্থাপনা। বিশ্বের সর্ববৃহত্ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২০০৮ সালে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুইটি ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারসহ ১০টি সুপরিসর উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তারই আলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১১ সালে দুইটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং ২০১৩ সালে আরো দুইটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানবহরে যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে দুইটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমান বহরে যুক্ত হয়। ২০১৮ সালের আগস্ট ও নভেম্ব্বর দুইটি এবং ২০১৯ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্ব্বরে আরো দুইটিসহ মোট চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ২০০৮ সালে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মোট ১০টি এবং পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডিসেম্ব্বর ২০১৯ সালে আরো দুইটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার বিমানবহরে যুক্ত হওয়ায় নতুন বিমানের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ১২টি। ২০১১ সাল থেকে বহরে যুক্ত হওয়া উড়োজাহাজগুলির সুন্দর নামকরণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজেই করে দিয়েছেন। সেগুলো হলো—পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙ্গা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খি, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাংচিল, রাজহংস, সোনার তরি ও অচিন পাখি। এই উড়োজাহাজগুলো সম্পূর্ণ নতুন আধুনিক ও জ্বালানিসাশ্রয়ী।

এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার অভিপ্রায়ে ২০১৮ সালে তিনটি নতুন ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ জিটুজি পদ্ধতিতে ক্রয়ের জন্য কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি)-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বর্ণিত উড়োজাহাজসমূহ ২০২১ সালের শুরুতেই বিমানবহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ফলে বিমানের মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ২১টি।

বিমানের এ সাফল্যের দাবিদার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত বর্তমান সরকার।

যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা :স্বীকার করতে কোনো কুণ্ঠা নেই একটা জাতীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে বিমানের সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধতা নিয়েই গত প্রায় পাঁচ দশকের কাছাকাছি সময়ব্যাপী বিমান তার পথ পরিক্রম করে চলেছে। একটা বিমান সংস্থার কাছে যাত্রীদের প্রত্যাশা অনেক। তবে এবার বিমান বহরে নতুন সংযুক্ত উড়োজাহাজগুলো সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এর ফলে সম্মানিত যাত্রীদের অভিযোগের মাত্রা ক্রমশ কমে আসছে, যা আরো কমিয়ে আনতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যেহেতু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের শতকরা ৯৫ ভাগেরও বেশি যাত্রী বাংলাদেশি, সেহেতু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীসেবায় দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। খাবারের মেনু নির্বাচনে বাংলাদেশি রসনাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। এজন্য বিমান নিজস্ব খামারে উত্পাদিত পণ্য দিয়েই খাবারের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ তৈরি করে।

বিমানের টিকিট ক্রয় করা নিয়ে আগে যাত্রীদের নানা অভিযোগ শোনা যেত। এখানে স্বচ্ছতা আনার জন্য মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট বিক্রয় চালু করা হয়েছে। ফলে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে টিকিট ক্রয় সহজসাধ্য হয়েছে। এছাড়া বিমানের কল সেন্টারের মাধ্যমেও যাত্রীরা টিকিট ক্রয় করতে পারছেন। জুন ২০২০ থেকে ঢাকার ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও কুর্মিটোলা তিনটি আধুনিক সেলস সেন্টার চালু করেছে। খুব শিগিগরই বলাকা সেলস সেন্টারটি সার্বক্ষণিকভাবে (৭/২৪) খোলা রাখা হবে, যাতে যাত্রীসেবা আরো গতিময় হয়। টিকিট বিক্রয় ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অটোমেশন পদ্ধতিও প্রবর্তন করা হয়েছে। বিমানের আধুনিকায়নের ফলে যাত্রীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কোভিড ১৯ ও বিমান :আধুনিক বিমান বহর এবং নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট শুরু করে বিমান যখন ঘুরে দাঁড়াবার দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই করোনা নামক এক মহামারি ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণে গত মার্চ ২০২০ থেকে বিমানের অপারেশন দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে ফলে রাজস্ব আহরণ চলে যায় শূন্যের কাছাকাছি। মার্চ ২০ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিমানের ৩৪০১টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়।

বর্তমানে স্বাভাবিক ফ্লাইট অপারেশন বাতিল এবং ঢাকাসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিমানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং চার মাসের বেশি সময় থেকে প্রায় বন্ধ হয়ে রয়েছে, যা একটা বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। উপরন্তু আধুনিক প্রযুক্তির নতুন উড়োজাহাজগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়। অনেকেই হয়তো জানেন বিমান ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ভাইবোনদের আনা-নেওয়া করছে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনসমূহের সক্রিয় সহযোগিতায় বিমান করোনাকালে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, বাহরাইন, মিশর, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া, স্পেন, পর্তুগাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, ওমান ও কাতার সহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী আনা-নেওয়া করেছে। এছাড়া আরো কয়েকটি দেশে যাত্রী পরিবহন প্রক্রিয়াধীন। বিমান শুধু করোনা কালে তিন মাসে প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে। বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেডিকেটেড কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিগত ১৫ মে ২০২০ তারিখে চীনের গুয়াংজু থেকে চিকিত্সা সামগ্রী মালদ্বীপে পরিবহনের মাধ্যমে যে কার্গো চার্টার ফ্লাইটের যাত্রা শুরু করেছিল তা আজ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্য ছাড়িয়ে ইউরোপ মহাদেশে প্রসারিত হয়েছে। মে ২০২০ এর শেষ সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১২৫ জনের একটি কন্টিনজেন্ট সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অগ্রগামী দলকে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে পরিবহন করেছে। আশার কথা এই যে এ মাসে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে আরো একটি ফ্লাইটসহ মালিতে তিনটি ফ্লাইটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীদের পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

কোভিড-২০১৯ প্যানডেমিকের পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিমান চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত সব নিয়ন্ত্রক সংস্থা নানাবিধ স্বাস্থ্যবিধি প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। তারই আলোকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও যাত্রীসুরক্ষা-সম্পর্কিত বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করেছে, যেখানে বিমানকে জীবাণুমুক্ত রাখা, যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্য কিট সরবরাহ করাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রিয় যাত্রীসাধারণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে আস্থা অর্জন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মূল লক্ষ্য। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে ২০১৮ সাল থেকে আমি সম্পৃক্ত আছি। বিগত বছরগুলোতে বিমানের উন্নয়নের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সার্ভিস, যাত্রী ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিং, আইটি ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে যা যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে এবং যাত্রীসেবা আরো উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থায় প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং সম্মানিত যাত্রীগণ ভবিষ্যতে এক্ষেত্রে আরো উন্নতি দেখতে পাবেন বলে আশা করি।

তাই বলা যায়, সব পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে চলছে বিমান। পরিবর্তনের ছোঁয়া তার সর্বাঙ্গে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোভিড-১৯-এর ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কাটিয়ে শিগিগই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে জাতির পিতার হাতে গড়া বাংলাদেশ বিমান সম্মানিত যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে বিশ্বমানের একটি এয়ারলাইনসে পরিগণিত হবে।

n লেখক : চেয়ারম্যান, বিমান পরিচালনা পরিষদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সাবেক সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়