বায়িং হাউজকে রেক্সের নিবন্ধন দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে রপ্তানিমুখী শিল্প—উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে জিএসপি সুবিধা হুমকির মুখে পড়বে। বিষয়টি নিয়ে রবিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে (ইপিবি) এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে রপ্তানিকারকরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রেক্স বাস্তবায়নে রপ্তানিকৃত প্রতিটি কনসাইনমেন্টের বিপরীতে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ সার্ভিস চার্জ বাবদ ৩৭৫ টাকা ধায্য করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। রপ্তানিকারকরা এই সার্ভিস চার্জের বদলে পুরো কার্যাদি সহজীকরণে নতুন সফটওয়্যার চালুর পক্ষে। সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনে সার্ভিস চার্জ দিতে রাজি রপ্তানিকারকরা।
ইপিবি সূত্রমতে, রেজিস্টার্ড এক্সপোর্টার্স সিস্টেম বা রেক্স সুবিধাটি চালু করা হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা বা জিএসপি সনদ প্রদান সহজীকরণের জন্য। এর মাধ্যমে রপ্তানিকারক নিজেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ঘোষণা ‘স্টেটমেন্ট অন অরিজিন’ দিতে পারে।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে বায়িং হাউজগুলোর পক্ষে রেক্সের নিবন্ধন চাওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে পোশাক উত্পাদনকারী-রপ্তানিকারক ছাড়াও বায়িং হাউজকে রেক্সের নিবন্ধন দেওয়ার কথা বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে গতকালকের বৈঠক ছাড়াও গত ১২ জুলাই বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে চিঠি লিখেছে দেশের নিট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরাসরি পোশাক উত্পাদনকারী ছাড়া ও অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে জিএসপি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হবে না।
পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, যে পোশাক বাংলাদেশে তৈরি হয় তার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের জিএসপি সুবিধা দিয়ে থাকে। কোনো প্রস্তুতকারক ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে যেমন বায়িং হাউজ বা মধ্যস্বত্বভোগী বা ব্রোকারকে এ সুবিধা দেওয়া হলে তা জিএসপির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি হবে। সেক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পোশাকের বিনিময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে জিএসপি প্রদানের সম্ভাবনা থাকবে। ফলে দেশের উত্পাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ সুনাম ও জিএসপি সুবিধা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জিএসপি সুবিধার শর্ত অনুযায়ী এক স্তর নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সুবিধার আওতায় ইইউতে রপ্তানি করতে হলে অবশ্যই ঐ পোশাক বাংলাদেশে প্রস্তুত হতে হবে। তিনি বলেন, অন্য কোনো সমিতির পক্ষে উত্পাদনকারীর নিরাপত্তা ও শ্রমিক স্বার্থ তদারকি করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম হলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশকে দেওয়া জিএসপি সুবিধার ওপর পড়বে। সেই সঙ্গে শর্ত মোতাবেক পোশাক বাংলাদেশে প্রস্তুত করা হয়েছে কি না, তা কেবল রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প উত্পাদন সংশ্লিষ্ট সমিতির পক্ষেই নিশ্চিত করা সম্ভব। যেহেতু বায়িং হাউজ বা অন্য কোনো ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোশাক উত্পাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বা রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় সে ক্ষেত্রে তাদের জিএসপি দেওয়ার কোনো প্রকার সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গত, ইইউ রপ্তানিকারক পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও জিএসপি সনদ প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করতে ২০১০ সালে রেক্স বাস্তবায়ন শুরু করার তৃতীয় পর্যায়ে গত বছরের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ রেক্স পদ্ধতিতে প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে জিএসপির রুলস অব অরিজিন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ এবং ইইউ কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনিক সহায়তা দিতে দায়িত্ব প্রদান করা হয় ইপিবিকে।
