কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পদ থাকলেও নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ০০:৩৪

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল। শিশু, মেডিসিন, সার্জারিসহ একাধিক পদ থাকলেও নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আসমা বেগম, রোজিনা ইসলাম, আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন রোগীর অভিযোগে জানা যায়, বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিত্সক না থাকায় চিকিত্সার জন্য তাদের জেলা সদরে যেতে হয়। এমনকি একজন শিশু বিশেষজ্ঞও নেই। এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম থাকলেও কোনো পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্যত্র প্রচুর টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হয়। 

জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে  মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, গাইনি, কার্ডিওলজি, চক্ষু, চর্ম, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক্স ও মেডিক্যাল অফিসারের পদ রয়েছে ২০টি। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিত্সা কার্যক্রমে টিএইচওসহ ১২ জন মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের কোনো পদেই চিকিত্সক নেই। ২০ জন নার্সের মধ্যে আছেন ১৩ জন। পরিসংখ্যানবিদের পদটিও রয়েছে শূন্য। এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও এসবের কোনো টেকনিশিয়ান নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্য জায়গায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। দুটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। ফলে গর্ভবতী মায়েদের অস্ত্রোপচারে ২০ কিলোমিটার দূরে মৌলভীবাজার যেতে হচ্ছে।

সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকায় রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না বলে ডাক্তার ও নার্সরা জানান। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন আছে। তবে টেকনিশিয়ান না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, যেসব চিকিত্সক আছেন তাদের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিত্সার মান ভালো এবং করোনাকালীন অন্য সময়ের তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।