লটকনের মৌসুম শেষেও চাহিদার কমতি নেই

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ০০:৩৪

নিবারণ রায়, নরসিংদী

বাম্পার ফলনে অধিক লাভের আশায় রয়েছেন নরসিংদীর সুস্বাদু লটকন চাষিরা। এক সময়ের জংলি ফলের কদর বেড়েছে শতগুণ। ঝোপ-ঝাড়ে গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরে থাকত এই ফল। তবে সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ফলের পুষ্টিগুণ সবার জানা হয়ে গেছে। তাই এর কদরসহ বাণিজ্যিক চাষের পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এই লটকন। নরসিংদী জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল রঙের মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই এখানে লটকনের ভালো ফলন হয়। লটকনের প্রায় শেষ মৌসুমে এসেও এর চাহিদার কমতি নেই। জানা যায়, বাংলাদেশের লটকন চাষের বৃহত্তম এলাকা নরসিংদী জেলা। কারণ এ অঞ্চলের লটকন অন্য যে কোনো জেলা থেকে মিষ্টি এবং রসালো হয়ে থাকে। এখানকার বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে ফলটির ফলন ভালো হয়। সেজন্য এ জেলার মানুষ লটকনের বাণিজ্যিক চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে বলে প্রতিবছরই বাড়ছে এর উত্পাদন। লটকন চাষ করে ভাগ্যবদল হয়েছে হাজারো কৃষকের। এবার ফলন ভালো হলেও মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে ন্যায্যমূল্য নিয়ে বিপাকে চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লটকন গাছ সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণের উপযুক্ত সময়। বর্ষার শেষের দিকে মানে ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও গাছ লাগানো যায়। লটকনের গাছ ঝোপের মতো হয়ে থাকে। প্রতিবছর মাঘ-ফাল্গুনে লটকন গাছে মুকুল আসা শুরু হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে এ ফল পরিপক্ব হয়ে থাকে। এটি চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। স্ত্রী গাছ লাগিয়ে দিলেই হয়। সময়ে সময়ে একটু পরিচর্যা করতে হয়। গোড়ার চারদিকে জৈবসার দিলে ফলন ভালো হয়। পিঁপড়া বা পোকামাকড়ের হাত থেকে ফল বাঁচাতে ছত্রাকনাশক দিতে হয়। এদিকে মৌসুমি এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসে লটকনের বাজার। এ বিষয়ে লটকন ব্যবসায়ী শিবপুর উপজেলার জয়নগর গ্রামের শাহাদাত্ হোসেন জানান, নরসিংদীর লটকন ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। প্রকারভেদে পাইকারিভাবে মণপ্রতি দাম ওঠে দেড় হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। নরসিংদীর বেলাব উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিম-উর রউফ খান বলেন, চলতি মৌসুমে ১৭৫ হেক্টর জমিতে লটকন বাগান করা হয়েছে। রোপণের তিন বছরের মধ্যে ফলন আসে এ গাছে। ফল দেয় টানা ২০ থেকে ৩০ বছর। লটকন গাছের রোগবালাই তেমন দেখা যায় না।