নবীনগর পৌরসভার বিরুদ্ধে বর্জ্য ফেলার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদরের তিতাস নদীতে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে এলাকার সব বর্জ্য। এই নদী দূষণে সহযোগিতা করছেন খোদ নবীনগর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই। এভাবে দিনের পর দিন দূষণে মৃতপ্রায় এক সময়ের খরস্রোতা তিতাস নদী। প্রতিনিয়ত এসব বর্জ্য ফেলায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে তিতাস নদীর শাখা নদী হিসেবে পরিচিত বুড়ি নদীটিও। স্থানীয়রা জানান, এসব বর্জ্য নদীতে পড়ায় দূষণের শিকার হচ্ছে আমাদের প্রিয় তিতাস নদী। অনেক প্রতিবাদ করেছি তারপরেও থামানো যাচ্ছে না প্রিয় নদীর দূষণ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীনগর পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর মধ্যে তিতাস ও বুড়ি নদী অন্যতম। সেই তিতাস ও বুড়ি নদীকে কেন্দ্র করেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার পৌর সদরের এই জায়গাটি। প্রতিদিন নিয়ম করেই পৌরসভা গাড়ির পর গাড়ি বোঝাই করে দূষিত বর্জ্য ফেলছে তিতাস ও বুড়ি নদীতে। এই নদীর পাড়ে ময়লা ফেলার কারণে নদী ভরাট হয়ে নদীর পাড় ঘিরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন অবৈধ দখলের স্থাপনা। এভাবে দখল আর দূষণ হলে এক সময় তিতাস ও বুড়ি নদীর অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধু পুস্তকেই পাওয়া যাবে তিতাস ও বুড়ি নদীর নাম।
দেখা যায়, নবীনগর পৌরসদরে (৫ নম্বর ওয়ার্ড) নবীনগর সদরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত মাঝিকাড়ানামক স্থানে ব্রিজের পাশে তিতাস নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা ময়লা ফেলে দখল করা হয়েছে। এমন করে আরো দখলে নিতে নদীর পাড়ে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে এলাকার সব বর্জ্য। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে এক সময় যত দূর চোখ যেত এ নদীর বিস্তৃতি চোখে পড়ত। এখন নদীর পাড় ঘিরে গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। এখন চারিদিকে তাকিয়ে দেখি শুধু দখল আর দখল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর পৌরসভার মেয়র এড. শিব শংকর দাশ বলেন, আমাদের পৌরসভার ডাম্পিং না থাকায় পৌর এলাকার মাঝিকাড়া ব্রিজের পাশে টিনের বেড়া দিয়ে ময়লা ফেলছিলাম। এখন চতুর্দিকে বন্যা হওয়ায় সেই টিনের বেড়াগুলো হয়তো ভেসে গেছে। তাছাড়া যে জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে সেখান থেকে নদী অনেক দূরে। আমাদের কিছু করার নেই। সাত বছর যেহেতু কষ্ট করেছেন আরো এক বছর কষ্ট করতে হবে।
