রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। শনিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো এক শোকবার্তায় রামনাথ কোবিন্দ বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রায় ও এর আর্থসামাজিক উন্নয়নে আবদুল হাইয়ের অবদান চিরস্মরণীয়। তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল রবিবার বাদ আসর কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের একান্ত সহকারী সচিব ও ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাইয়ের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত উক্ত জানাজায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তার ছোট ভাইয়ের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পারিবারিক গোরস্থানে পিতা-মাতার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রপতি বিকাল ৪টায় হেলিকপ্টারযোগে মিঠামইনে অবতরণ করেন। এর আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাইয়ের মরদেহ মিঠামইনে আনা হয়। সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে তার মরদেহ রাখা হয়। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে উক্ত কলেজ মাঠে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাষ্ট্রপতির ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাই গত বৃহস্পতিবার রাতে করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতি কামালপুরের নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপনের পর আজ সোমবার ঢাকায় ফিরবেন।
