ঋতু

বর্ষা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ২০:১৪

সাধন সরকার

 

বর্ষণমুখর দিনে রিমঝিম শব্দ শুনতে কার না ভালো লাগে! কোথাও পুকুরপাড়ে রিনিঝিনি, পত্রপল্লবে টাপুর-টুপুর, টিনের চালে ঝাপুর-ঝুপুর শব্দে মন বিহ্বল হয়ে পড়ে। বাংলা সাহিত্যে বর্ষার প্রভাব ব্যাপক। লেখকের সৃষ্টি যেন ভিন্নমাত্রা পায় বর্ষাকে ঘিরে। বর্ষায় প্রেম-বিরহ, ভাবাবেগ ফুলেফেঁপে ওঠে। আষাঢ় ও শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও এর পরিধি আরো বিস্তৃত। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের পর বর্ষা প্রকৃতিকে সতেজ, স্নিগ্ধ, কোমল আর উজ্জ্বল করে তোলে। মরা নদীও বর্ষায় জেগে ওঠে। নদ-নদীরা যৌবন ফিরে পায় বর্ষায়।

প্রকৃতিকে মন ভরে উপভোগ করতে অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয় বর্ষা। শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ বর্ষাকে যেন একটু বেশি উপভোগ করে। বর্ষায় গ্রামগঞ্জের মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, জলাশয় ভরে ওঠে। গ্রামের পথঘাট কাদাজলে মাখামাখি হয়ে যায়। কোথাও আবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে মানুষ। বন্যা ও পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এলোমেলো হয়ে যায় জীবন। বর্ষায় গ্রামেগঞ্জের খাল-বিলে শাপলা ফুল ফোটে। শাপলা ফুল ছাড়াও ফোটে হরেক রকমের ফুল। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল।’ কদম, কেয়া, শাপলা, পদ্ম, দোলনচাঁপা, ঘাসফুল, কুমড়াফুল, ঝিঙেফুল, কচুফুল, কেশরদাম, পাতাশেওলা, পাটফুল, বনতুলসী, নলখাগড়া, হেলেঞ্চাফুল, অর্কিড, কলমিফুল, ফণীমনসা গোলপাতা ইত্যাদি ফুল প্রকৃতিকে মোহিত করে তোলে। বর্ষাকালের ফলগুলোও পুষ্টিগুণে ও রসে ভরা।

বর্ষাকে ভালোবাসার ঋতু বললেও অত্যুক্তি হবে না! বর্ষার নাচন মানবমনে এক রহস্যময় আবেগ তৈরি করে। প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় বর্ষা। বাংলাদেশের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষার ব্যাপকতা বেশ লক্ষণীয়।