রায়পুরায় মেঘনার ভাঙন
মো. মোস্তফা খান, রায়পুরা (নরসিংদী) সংবাদদাতা
রায়পুরায় মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, ইমামদীরকান্দি ও সদাগরকান্দি গ্রামের প্রায় ৭০টি বসতভিটা। যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হতে পারে আরো ঘরবাড়ি এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। সেই সঙ্গে গত কয়দিনে অব্যাহত ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় শত বিঘা ফসলি জমি। সব হারিয়ে মানবেতর দিন যাপন করছে ঘরহারা পরিবারগুলো। শুক্রবার সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, ইমামদীরকান্দি ও সদাগরকান্দি গ্রামে মেঘনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার করুণ দৃশ্য। নীরব দর্শকের ভূমিকায় অপলক দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ হতে এখনো কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাননি বলে জানান অসহায় পরিবারগুলো। ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ভিটাবাড়ি না থাকলে সেমাই চিড়া-মুড়ি দিয়ে কত দিন চলে। আগুন লাগলে অন্তত ভিটাটা তো থাকত, মাথার ওপর কাগজ দিয়ে থাকতে পারতাম। নদীভাঙনে তো ভিটাবাড়িসহ সব কিছু কেড়ে নিল। একটি থালা-বাসনও রাখতে পারিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনায় ব্যাপক খরসে াত দেখা দিয়েছে। ফলে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এখনো যারা হুমকির মুখে রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই ভাঙনের আশঙ্কায় ঘর থেকে আসবাবপত্র, বিভিন্ন মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আরো শত শত পরিবারসহ শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাবে। তাই ইউনিয়নগুলো রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানান।
চাঁনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোমেন সরকার বলেন, আমি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং তাদেরকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার জন্য তালিকা প্রস্তুত করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে আসলেই দ্রুত তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চরমধুয়া ও চাঁনপুর ইউনিয়নে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব একনেকে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে এটি বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।
