উজিরপুরে বিল নিতে শিক্ষকদের কাছে ‘খরচ’ দাবি কর্মকর্তার!

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ২১:৫৫

জুন ক্লোজিংয়ের নামে শিক্ষা অফিসারের

অ্যাকাউন্টে ২ কোটি টাকা জমা

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা

উজিরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে জুন ক্লোজিংয়ের নাম করে শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগমের অ্যাকাউন্টে জমা রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্লোজিংয়ের নামে এজি অফিসে খরচের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জানা যায়, উপজেলায় ১৮৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার ওপরে বিল ভাউচার করে অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে শিক্ষা অফিসারের এসটিডি অ্যাকাউন্টে জমা করেন। তবে শুধু দু-একটি খাত ছাড়া সব খাতের টাকা শিক্ষকদের স্ব স্ব অ্যাকাউন্টে ৩০ জুনের মধ্যে স্থানান্তর হওয়ার কথা থাকলেও একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার নজির নেই বলে শিক্ষকরা জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করায় গতকাল রবিবার থেকে কিছু কিছু শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, এ বছরই প্রথম শিক্ষকদের সব খাতের টাকা শিক্ষা অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ নামে ঘুষ দাবি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে হিসাবরক্ষক পারুল রানী জানান, ‘এই উপজেলায় আমি নতুন যোগদান করায় সবকিছু বুঝে উঠতে পারিনি। তবে উেকাচ দাবির ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি বলতে পারবেন।’ শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম জানান, ‘জুনের শিক্ষকদের বিভিন্ন বিলের ব্যাপারে হিসাব রক্ষক কী করছেন আমি জানি না। তবে জুন ক্লোজিংয়ে এজি অফিসসহ বিভিন্ন অফিসে কিছু খরচ আছে। অনিয়ম বা দুর্নীতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষা অফিস থেকে কোনো খরচা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সব বিল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রনতি বিশ্বাস জানান, ‘অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আ. মজিদ সিকদার বাচ্চু জানান, ‘কোনো অনিয়ম হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’