করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জেকেজির (জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা) চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনাকে দুই দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে একই অভিযোগে গ্রেফতার ডা. সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফুল চৌধুরীকে রবিবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সে অনুযায়ী মামলা সাজানো হবে। তারা কোন কোন প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি করেছে সে বিষয়ে আমাদের কাছে স্বীকার করেছে। তাছাড়া তাদের কম্পিউটারেও জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এগুলো তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে যথেষ্ট বলে মনে করছে মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি)। তিনি বলেন, আরিফ ও সাবরিনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রয়োজন নেই। তাদেরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
জেকেজির প্রতারণার ফাঁদ :‘আমি জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা বলছি। আপনাদের কোম্পানিতে কতজন শ্রমিক আছে। অপর প্রান্ত থেকে নজরুল ইসলাম নামে একজন বলেন, সাত শতাধিক শ্রমিকের করোনা টেস্ট করাতে চাই। ঠিক আছে বলে, ডা. সাবরিনা তাকে বলেন, জনপ্রতি ২ হাজার টাকা লাগবে। তখন নজরুল ইসলাম তাকে বলেন, দেখুন আপা, যেখানে সরকারিভাবে করোনা টেস্ট করতে কোনো টাকাই লাগে না আপনি কেন এত টাকা দাবি করছেন। তখন ডা. সাবরিনা বলেন, ঠিক আছে ২০০ টাকা কমে জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা করে দিয়েন। আমি প্রতিনিধি পাঠাচ্ছি।
এভাবে টঙ্গীর এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ৭০০ শ্রমিকের করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করতে ১২ লাখের বেশি টাকা নেয় জেকেজি হেলথ কেয়ার। গত মে মাসের এই পরীক্ষায় কারখানাটির ৭০০ শ্রমিকের করোনা টেস্টে ৭০ জনের পজিটিভ বাকিদের নেগেটিভ ধরা পড়ে। পরে কোম্পানিটি ঐ ৭০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখে। ১৪ দিন পর ফের তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিভার ক্লিনিকে পরীক্ষা করলে সবার নেগেটিভ আসে।
একইভাবে জেকেজির প্রতারণার শিকার কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের সবাই জেকেজি হেলথ কেয়ারে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করে প্রতারিত হয়েছি।
০
