আরব আমিরাতের মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহের পথে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ২২:৫০

মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কে জানতে গ্রহটিতে মহাকাশ যান পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ৫০ কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আগামী বছর অর্থাত্ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মঙ্গলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মহাকাশযানটির। কোনো আরব দেশের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে পাঠানো প্রথম মিশন এটি। প্রাথমিকভাবে ১৪ জুলাই এর উেক্ষপণের সূচী নির্ধারণ করা হলেও আবহাওয়াজনিত কারণে দুইবার তা পেছানো হয়।

গতকাল সোমবার জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে ইউএই-র হোপ মহাকাশযান উেক্ষপণ করা হয়। উেক্ষপণের এক ঘণ্টা পরই মহাকাশযানটি তার সৌর প্যানেলের পাখা মেলে ধরে আর পৃথিবীতে থাকা মিশনের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ চালু করে। পুরো মিশনে মহাকাশযানটির সব যন্ত্রপাতি সৌর শক্তিতে পরিচালিত হবে। সেখানে পৌঁছে যানটি লাল গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করবে এবং মঙ্গলের আবহম্লল সম্পর্কে পৃথিবীতে তথ্য পাঠাবে।

আমিরাতের অ্যাডভান্স সায়েন্স বিষয়ক মন্ত্রী সারাহ আমিরির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এই               মঙ্গল মিশনে ২০ কোটি ডলার (১৬৯৪ কোটি টাকা) ব্যয় হয়েছে। ২১১৭ সালের মধ্যে মঙ্গলে বসতি স্থাপনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। প্রথম আমিরাতি হিসেবে হাজ্জা আল মানসৌরি গত সেপ্টেম্বরে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ওই সময় তিনি পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন।

বর্তমানে আটটি মিশন মঙ্গলে অভিযান চালাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি মঙ্গলকে প্রদক্ষিণ করছে আর বাকিগুলো এর পৃষ্ঠে অবতরণ করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর মঙ্গলে আরও একটি করে মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।

হোপ মহাকাশযান মিশনটির বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান সারাহ আল হামিরি মহাকাশযানটির সফল উেক্ষপণের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তার দেশের ওপর এর প্রভাব অনেকটাই ৫১ বছর আগে আমেরিকার চাঁদে পা রাখার মতো। সেটিও ২০ জুলাই তারিখেই হয়েছিলো। আজি আমি আনন্দিত যে আরব আমিরাতের শিশুরা ২০ জুলাই তারিখে ঘুম থেকে উঠে তাদের নিজস্ব অভিযানটি দেখতে পাবে, যা নতুন একটি বাস্তবতা। যা তাদের নতুন কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করবে।-বিবিসি