ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী মঈন উদ্দিনের মানহানির মামলা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২০, ০০:১৯

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মঈন উদ্দিন (৭১) ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতেই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

 ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক খবরে বলা হয়েছে, মঈন উদ্দিনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে টুইট করায় প্রীতি প্যাটেলের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি মামলাটি করেছেন।

গত বছর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্টে কমিশন ফর কাউন্টারিং এক্সট্রিমিজম ‘চ্যালেঞ্জিং হেইটফুল এক্সট্রিমিজম’ বিষয়ক একটি নথি প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধসহ মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধের জন্য তাকে দায়ী করায় মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মঈন উদ্দিন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঐ নথিটি প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ের টুইটার থেকে প্রকাশ করা হয়। পরে সেটা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল, বিবিসির সাংবাদিক মিশাল হুসেইন, মানবাধিকারকর্মী পিটার ট্যাটচেলসহ অনেকেই রিটুইট করেছেন। ঐ নথিতে ইউরোপীয় ডেটা সংরক্ষণ বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে মঈন উদ্দিন অভিযোগ করেন।

নর্থ লন্ডনে বসবাসকারী মঈন উদ্দিনের দাবি, ১৯৭১ সালের সহিংসতায় জড়িতদের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ২০১৩ সালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষক, ছয় জন সাংবাদিক ও তিন জন চিকিত্সকসহ ১৮ বুদ্ধিজীবীকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয় দুই বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। তাদের ফাঁসির সাজা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর তখনকার সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের পলাতক এই দুই কেন্দ্রীয় নেতার মধ্যে মঈন উদ্দিন যুক্তরাজ্যে ও আশরাফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। পলাতক এই দুই বদর নেতার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন হয়। আত্মসমর্পণ না করায় তারা আপিলের সুযোগ হারালেও এখন পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করা যায়নি। যুক্তরাজ্য মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না বলে মঈন উদ্দিন সেখানে বহাল তবিয়তে আছেন। আর আশরাফুজ্জামানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।