চরভদ্রাসনের গোপালপুর ফেরিঘাটে যাত্রী ভোগান্তির অভিযোগ

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২০, ২১:৪১

ভাড়া বাড়ালেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর ফেরিঘাট, ওপারে দোহার এলাকার চরমইনুট ঘাট। ফরিদপুরের তিন উপজেলার মানুষ ঢাকায় যাওয়া-আসার জন্য এই রুট ব্যবহার করে। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এই রুটে ফেরি চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বছরের মধ্যেই ফেরি চালুর কথা রয়েছে এই রুটে। এদিকে এই নৌ রুটে পারাপারের জন্য মাধ্যম ট্রলার ও স্পিডবোট। কিন্তু সেখানে যাত্রীরা ঘাট ইজারাদারের কাছে জিম্মি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, এখানে পদ্মা পার হতে স্পিডবোটে সময় লাগে ১৮ মিনিটের মতো আর ট্রলারে ঘণ্টাখানেক। ১৮ মিনিটের এই যাত্রায় ঘাট ইজারাদার স্পিডবোটের যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সন্ধ্যায় এবং আবহাওয়া খারাপ হলে এই ভাড়া দ্বিগুণ, তিনগুণ পর্যন্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে ট্রলারে ভাড়া নেওয়া হয় ১৬০ টাকা করে। যাত্রীদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য ঘাটের তুলনায় এই ভাড়া অনেক বেশি। এছাড়া প্রতি ঈদে যাত্রীদের জিম্মি করে কয়েক গুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হয় বলেও জানান তারা। করোনার কারণে লকডাউনের আগে এখানে স্পিডবোটে ভাড়া নেওয়া হতো ১৭০ টাকা, পাশাপাশি ট্রলারের যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিত ১০০ টাকা।  ইজারাদার নুরুল ইসলাম পাটনি জানান, তার নামের লাইসেন্স ব্যবহার করে বর্তমান ঘাটমালিকেরা ঘাট ইজারা নিয়েছেন। বিনিময়ে তাকে সামান্য কিছু টাকা দেন।

ঘাট পরিচালনার অন্যতম অংশীদার এস এম শাহীন আনোয়ার বলেন, লকডাউনের পরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি স্পিডবোট ও ট্রলারে ধারণক্ষমতার কম যাত্রী নেওয়া হচ্ছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘বর্তমান ঘাটমালিকদের বিরুদ্ধে ভাড়া বৃদ্ধি ও যাত্রী হয়রানির অনেক অভিযোগ রয়েছে। লকডাউনের ভেতরে ঘাটমালিকেরা গোপনে ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রী পারাপার করেছেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি এবং তা অব্যাহত আছে। এর পরেও ঘাটমালিকেরা নির্দিষ্ট টোল চার্ট না টাঙিয়ে ভাড়া বেশি নিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, করোনাকালীন লকডাউনের সময়েও তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রী পারাপার করেছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসন তত্পর রয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. নুরুন্নবী বলেন, ২০১৮ সালের ভাড়া চুক্তির পর আর বাড়ানো হয়েছে বলে জানা নেই। আর ভাড়া বাড়াতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও জেলা প্রশাসক সুপারিশ করলেই ভাড়া বাড়বে। ইজারাদার ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াতে পারবেন না এবং চুক্তি অনুযায়ী ভাড়ার চার্ট প্রকাশ্য স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, ‘ঘাটের অতিরিক্ত ভাড়া ও অনিয়মের বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই রুটে ফেরি চালুর চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠী জটিলতা সৃষ্টি করে সেটি চালু করতে দেয়নি। আশার কথা হলো, এই রুটে খুব শিগিগর নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ফেরি চলাচল শুরু হবে, তার আগেই চালু হবে সি-ট্রাক। সেই লক্ষ্যে রুট নির্ধারণ করে ইতিমধ্যে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এমপি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, সি-ট্রাক এবং এর পরে ফেরি চালু হলে ঘাটে যাত্রী হয়রানি আর থাকবে না।