দীর্ঘকাল ধরে নতুন বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে সমস্যায় পড়েছেন নতুন বাড়িওয়ালারা। জ্বালানিসুবিধা না থাকলে ভাড়াটিয়া পাওয়া যায় না। একটি বৈধ পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে দশটি অবৈধ পথ খুলে যায়। চতুর বাড়িঅলারা কিস্তু বসে নেই। তাঁরা কূটকৌশলে গ্যাস-সংযোগ কিন্তু ঠিকই নিয়ে নিচ্ছেন। সরকারের গ্রাহকের তালিকায় তাঁদের নাম নেই! আর কেউ নিচ্ছেন বৈধ (?) সংযোগ, সরকারের গ্রাহকের তালিকায় তাদের নাম আছে। কীভাবে সম্ভব? বাংলাদেশে সবকিছুই সম্ভব। যাঁরা বৈধ (?) সংযোগ নিচ্ছেন, তাদের সংযোগ দেখানো হচ্ছে সংযোগ নিষিদ্ধ হওয়া সরকারি সিদ্ধান্তের আগে দেওয়া সংযোগ হিসেবে। তাদের সমস্ত বিলও পরিশোধিত দেখানো হচ্ছে। এর ফলে সংযোগ নিষিদ্ধকালীন গ্রাহকের সংখ্যার চেয়ে বর্তমানে গ্রাহকের সংখ্যা অনেক বেশি। আর এই প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য বিপুল অর্থ গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন গ্যাস-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রকৃত অর্থে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকেনি, গ্যাসের সাশ্রয়ও হয়নি বরং মাঝখানে কিছু লোক তাদের সম্পদের হিসাবের খাতাটা অনেক ভারী করেছেন। কেন এই লুকোচুরি? সাংবিধানিকভাবে কোনো এলাকায় থাকা রাষ্ট্রীয় কোনো সুবিধা সব নাগরিক সমানভাবে ভোগ করার অধিকার রাখে। যেহেতু বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও বাস্তবে সংযোগ দেওয়া বন্ধ হচ্ছে না, সেহেতু সরকারের উচিত হবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সবাইকে বৈধভাবে সংযোগ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে গ্যাস বিভাগের কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির পথ বন্ধ করা।
মো. বিল্লাল হোসাইন
প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর
