মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা। কাদা আর ময়লা পানিতে থইথই করছে ব্যস্ততম এ সড়ক। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এ মহাসড়কে চলাচলকারী শত শত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। টানা বৃষ্টির কারণে এ দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে। বেশি ভয়ংকর অবস্থা দেখা দিয়েছে এ মহাসড়কের কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারের এক কিলোমিটার, লাকসাম উপজেলার মিশ্রি ও জংশনের দুই কিলোমিটার এবং একই উপজেলার হাউজিং বাইপাসের দুই কিলোমিটার এলাকা। এখানে ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিনিয়ত যানবাহন আটকে যাচ্ছে। কখনো উলটে যাচ্ছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের অধিকাংশ স্থানে একেকটি গর্তের গভীরতা অন্তত তিন ফুটেরও বেশি। বৃষ্টির পানি জমে তা অনেকটা পুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে দুঃসহ দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে গাড়ির চালক, যাত্রী ও পথচারীদের। বৃষ্টিতে কাদা আর ময়লা পানিতে থইথই করছে সড়কের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা। এই সড়কে পায়ে হাঁটারও উপায় নেই। গর্তের কারণে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়া এই মহাসড়কের সোনাইমুড়ী চাষির হাট, নাথেরপেটুয়া, সোনাইমুড়ি-চৌরাস্তায় পিচ ঢালাই সড়কের খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী ছোট-বড় অসংখ্য বাহন। অন্তত ছয়টি গাড়ির চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর, মনোহরগঞ্জের খিলাবাজার, বিপুলাসার ও নাথের পেটুয়া বাজার এলাকার সড়ক সরু হওয়ায় এসব এলাকায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। সড়কটির দুই পাশে পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই। দৌলতগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, এ বাজারের হাউজিং বাইপাসের বেহাল অবস্থা।
এ কারণে পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেন। বাসচালক আলাউদ্দিন ও ফয়সাল আহমেদ জানান, ‘কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে ভোগান্তির অন্ত নেই। বৃষ্টির কারণে এ ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এ মহাসড়কের চাইতে জেলার অনেক উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তা আরো ভালো। এ সড়কের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সড়কের গর্তে ঢেউ তুলে ও হেলেদুলে গাড়ি চালাই, সড়কে না পুকুরে গাড়ি চলে বোঝা যায় না। অবিলম্বে এ দুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানাচ্ছি।’ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে এই আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে আছে। করোনার কারণে সড়কের সংস্কার কাজ ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। তবে এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য চেষ্টা করছি।’
