কাউখালীর পাঁচ নদীতে মিলছে না ইলিশ

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ২১:৩৩

বিপাকে জেলেরা

রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

ভরা মৌসুমের শুরুতে পিরোজপুরের কাউখালীর কচা, সন্ধ্যা ও কালিগঙ্গাসহ পাঁচটি নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। ইলিশ ধরা না পড়ায় অভাব-অনটনে ধারদেনা করে চলছে জেলে পরিবারগুলো। উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তর জানায়, উপজেলায় দেড় হাজার জেলে রয়েছে। এদের অধিকাংশই কচা, সন্ধ্যা, গাবখান, কালিগঙ্গা, চিরাপাড়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

প্রতি বছর মে মাসে কিছুটা কম থাকলেও জুন মাসের শুরু  থেকেই  জেলেদের জালে ধরা  দেয় রুপালি ইলিশ। কাঙ্ক্ষিত ইলিশের  দেখা পেয়ে হাসিতে ভরে ওঠে  জেলেদের মুখ। সারা বছরের ধারদেনা শোধ করতে থাকেন দরিদ্র জেলেরা। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় ৩০ জুন। এরপর জুলাই মাসও শেষ হতে চলছে কিন্তু ইলিশের দেখা পাচ্ছে না  জেলেরা। কবির, হানিফ, বাবুলসহ বেশ কয়েক জন জেলে জানান, নদীতে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় বিপদে আছেন তারা। দিন-রাত জাল  ফেলে  যে কয়টি মাছ পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে ইঞ্জিনচালিত  নৌকার তেল খরচও উঠছে না। এদিকে জেলেদের জালে অল্প মাছ ধরা পড়ায় তার দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কচা, সন্ধ্যা ও কালিগঙ্গা নদীর গভীরতা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে নদীতে ভরা মৌসুমে ইলিশের অকাল দেখা দিয়েছে। নদীর যে সব অংশে জাটকা ইলিশ বড় হয় সে রকম ৮/১০টি স্পট দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফনি ভুষণ পাল বলেন, মওসুমের প্রথম থেকে শুরু করে ভরা মৌসুমেও মাছের যে সংকট তা গত বছরেও ছিল। পরবর্তীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। আশা করি জুলাই মাসের শেষে থেকে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর যে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় তা দিয়েই আমাদের চলতি অর্থবছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, কাউখালীর কচা-সন্ধ্যা নদীর সুস্বাদু ইলিশের খ্যাতি দেশজোড়া। প্রতি বছর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় এখানকার ইলিশ।