বোরোতে ভালো দাম পাওয়ায় চাষের জমি বাড়ছে
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে প্রায় সবকিছু থমকে গেলেও বসে নেই ধানের জেলা দিনাজপুরের ৪ লাখ ৮০ হাজার কৃষক পরিবার। বোরো ধান ও ভুট্টা আবাদের পর এখন আমন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত তারা। বোরো ধান আবাদ করে লাভবান হওয়ায় বেশ উত্সাহের সঙ্গে আমন আবাদ শুরু করেছেন তারা। গ্রামাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, করোনার তেমন কোনো প্রভাব নেই। তারা তাদের স্বাভাবিক কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত। কেউ ব্যস্ত আমন বীজতলা তৈরি নিয়ে, আবার কেউ ব্যস্ত আমন চারা রোপণ নিয়ে।
গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পুরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল কৃষক মতিউর রহমান তার জমিতে শুরু করেছে ব্রি-৪৯ জাতের ধান রোপণ। তার সঙ্গে কথা হতেই তিনি জানালেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে বসি থাকিলে হামাক তো কাহো চালাবে নায়, হামার সংসার হামাক নিজেকেই চালাবা হবে, আর হামার খাবার হামাক নিজেকেই যোগাবা হবে।’ তিনি জানান, ৬০ একর জমিতে আমন আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে তার। দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ধান আবাদ করে বেশ কয়েক বছর ধরেই লোকসান গোনার পর এবার ভালো দাম থাকায় বারো ধান আবাদ করে তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। এভাবে কৃষক ন্যায্য দাম পেলে দেশ খাদ্য ঘাটতিতে পড়বে না।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল জানান, গতবছরের তুলনায় দিনাজপুরে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় গতবছর ২ লাখ ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হলেও এবার ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলায় ১৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এই বীজতলা দিয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার জমিতে আমন রোপণ করা যাবে। বন্যার আশঙ্কায় বেশি পরিমাণ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে দিনাজপুর জেলায় আমন রোপণ শুরু করেছে কৃষকরা। এ পর্যন্ত মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো জানান, কৃষকরা এবার বোরো ধানের দাম ভালো পাওয়ায় আমন আবাদে উত্সাহিত হয়েছেন।
