রয়টার্স
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ বলেছেন, গত কয়েক মাস ধরে এ অঞ্চলে সামরিক হুমকি বাড়িয়ে চলেছে চীন। তারা তাইওয়ান দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা জোরদার করছে। অঞ্চলটির কাছেই চীনের সামরিক মহড়ার পর বুধবার এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের আশঙ্কা নাকচ করা হয়নি। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জোসেফ উ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে চীন ধীরে ধীরে তার সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষত তাইওয়ানের নিকটবর্তী পানিসীমা ও আকাশসীমায় তারা এ কাজ করে চলছে। তাদের দিক থেকে হুমকি বেড়েই চলছে।
এ ধরনের উসকানিমূলক মহড়ার ব্যাপারে চীনের পক্ষ থেকে সব সময়ই একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়। দেশটি বলছে, এ ধরনের মহড়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রতিজ্ঞার অংশ হিসেবেই এই অনুশীলন বা মহড়ার আয়োজন করা হয়।
চীন-তাইওয়ান বিরোধের সূত্রপাত ১৯২৭ সালে। ঐ সময়ে চীন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। ১৯৪৯ সালে মাও জে দংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিপবীরা জাতীয়তাবাদী সরকারকে উত্খাতের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে তাইওয়ান যান। এখনো তারাই তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে ঐ সময় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে পড়লেও উভয় দেশই নিজেদের চীনের দাবিদার হিসেবে উত্থাপন শুরু করে। তাইওয়ানভিত্তিক সরকার দাবি করে, চীন কমিউনিস্ট বিপবীদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল হয়েছে। আর বেইজিংভিত্তিক চীন সরকার তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্নতাকামী প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। বর্তমানে তাইওয়ানকে চীনের সশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
২০২০ সালের মে মাসে তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন চীনবিরোধী নেতা সাই ইং ওয়েন। তার শপথগ্রহণের পর চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র ম্যা জিয়াওগুয়াং বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পর্যাপ্ত সক্ষমতা চীনের রয়েছে। বেইজিং কখনোই কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম বা চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।
ম্যা জিয়াওগুয়াং বলেন, শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণের জন্য চীন সব সময়ই বিপুল সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছে কিন্তু তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামীদের বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের জন্য কোনো জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে না।
