ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস ইউএনওর
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঘিওর বরংগাইল-নাগরপুর ও বানিয়াজুরি-ঘিওর সদর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখায় যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। স্থানীয় প্রভাবশালী স-মিলের মালিক ও কাঠ ব্যবসায়ীরা রাস্তার ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বাস, ট্রাক, ইজিবাইক, রিকশা, মোটরসাইকেল চলাচলেও বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাইলজুরী পঞ্চরাস্তা মোড় ও বানিয়াজুরি বাসস্ট্যান্ড এবং বালিয়াখোড়া বাসস্ট্যান্ড, চঙ্গ শিমুলিয়া, ঘিওর পূর্বপাড়া কবরস্থান এলাকাসহ প্রায় ২০টি করাতকল মালিক ও কাঠ ব্যবসায়ীরা রাস্তার ওপর গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রেখেছে। কোনোও প্রশাসনই তা নজরে নিচ্ছে না। এ সড়ক দিয়ে স্কুলকলেজগামী শিক্ষার্থী ও অর্ধশত ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন জেলা-উপজেলা শহরে যাতায়াত করে। এছাড়া নিয়মিত চলাচলকারী রাজধানীগামী যাত্রীদের যাতায়তের পথ এ সড়কটি। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশাল গাছ কেটে এনে রাস্তাটির দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে সারিবদ্ধভাবে ফেলে রেখে জনচলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স-মিল চালানোর বিধি থাকলেও তার তোয়াক্কা না করে খেয়ালখুশি মতো চালাচ্ছেন তাদের অবৈধ বাণিজ্য। ঘিওর করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন মূসা জানান, ‘সড়ক থেকে ছয়-সাত ফুট দূরত্ব বজায় রেখে গাছের গুঁড়ি রাখার নিয়ম। কিন্তু কিছু ব্যাপারী সে কথা মানেন না। আমি সবাইকে নিয়ে বসার ব্যবস্থা করেছি। কথা না শুনলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, বিষয়টি আমি দেখেছি। এটা আমার আগে জানা ছিল না। মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হবে এমন কোনো কাজ কারো করা উচিত নয়। আমি স-মিল মালিকদের ডেকে এনে তাদের কাঠের গুঁড়ি সরিয়ে নিতে বলব। যদি তারা তা না করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার বলেন, সড়কের দুই পাশে গাছ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদি কেউ এভাবে গাছ রেখে থাকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
