দেশীয় প্রজাতির মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করুন :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ২২:৪৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মত্স্য চাষে গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বেড়িয়ে এসে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করার মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় মত্স্য সপ্তাহ-২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী গণভবন লেকে পোনা মাছ অবমুক্ত করে জাতীয় মত্স্য সপ্তাহ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি মত্স্য খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্মরণ করেন—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চাষের মাধ্যমে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করতে ১৯৭৩ সালে গণভবনের লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। জাতির পিতা পাট, চামড়া, চায়ের সঙ্গে মাছকেও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং মত্স্য সম্পদ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় প্রধান খাত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় পৌনে ৫০০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ এবং ২৫০ প্রজাতির বেশি স্বাদুপানির মাছ রয়েছে। এছাড়াও চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুকসহ অসংখ্য মত্স্য সম্পদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, মত্স্যক্ষেত্রে বিনিয়োগের ফলে একদিকে যেমন নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয় তেমনি সমৃদ্ধ হয় জাতীয় অর্থনীতি। আওয়ামী লীগ সরকার এ খাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নানাবিধ কার্যকর ও ফলপ্রসূূ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে গত ১১ বছরে মাছের উত্পাদন ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাদুপানির মাছের উত্পাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ এবার বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। দেশ আজ মত্স্য উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে জনপ্রতি দৈনিক ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২.৫৮ গ্রাম মাছ আমরা গ্রহণ করছি।

কোভিড-১৯ এর মধ্যেও মত্স্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কর্মীবৃন্দ যেভাবে ঝুঁঁকি নিয়ে মাছের উত্পাদন, বিপণন এবং রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে, এজন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি করে দেশের জনগোষ্ঠীর শুধু পুষ্টি চাহিদা পূরণ নয়, ব্যাপক কর্মসংস্থান, বিদেশে মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব  তোফাজ্জল  হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, মত্স্য খাতে গত ১১ বছরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাড়তি প্রায় ৬৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে মত্স্য চাষি ও মত্স্যজীবীদের আয়। মা-ইলিশ রক্ষা ও জাটকা নিধন রোধে আমরা কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। জাটকা আহরণে বিরত দরিদ্র জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ইলিশের উত্পাদন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।