বন্যায় ভেস্তে যাচ্ছে পৌরসভার ৪৫ কোটি টাকার রাস্তা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ২২:৫২

মানিকগঞ্জ আগাম বন্যায় ভেস্তে যাচ্ছে মানিকগঞ্জ পৌরবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পৌরএলাকার অভ্যন্তরিন সড়কগুলো। সড়কের কাজ উদ্বোধনের সপ্তাহ না যেতেই বর্ষার পানিতে ভাঙ্গনের মুখে পরেছে সংস্কার হওয়া নতুন রাস্তা। উচ্চ পানি বৃদ্ধির চাপে নতুন রাস্তার কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমড় পানি পর্যন্ত তলিয়ে গেছে। ভাঙ্গন শুরু হয়েছে অনেকাংশেই। রাস্তা থেকে পানি না নামা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। সড়কের ক্ষতির মাত্রা কমাতে সংযোগ স্থানে বেরিকেট দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। 

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের আওতায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃ সংস্কার করা হয় বিভিন্ন ওয়ার্ডেও ২৮ কি.মি. সড়ক। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পুরো রাস্তা তলিয়ে যাচ্ছে। পানির স্রোতে রাস্তার মাটি সরে যাচ্ছে, শুরু হচ্ছে ভাঙ্গনের। পূর্বের দিনগুলোর মত পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ পৌরসভা ভাঙ্গন এলাকা চিহ্নিত করতে শুরু করেছে। আগামী শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকল্প পরিচালকগণ সরেজমিন পরিদর্শন করবেন এবং কার্যত সিদ্ধান্ত দেবেন এমনটাই জানান মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: বিল্লাল হোসেন। 

ভ্যানচালক আবুল হোসেন বলেন, রাস্তা হওয়াতে আমাগো অনেক ভাল হইছে। তবে বন্যার পানিতে নতুন রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে, স্রোত বাড়লে ভাঙ্গন আরো বাড়তে পারে। পানির নিচে রাস্তার ভাঙ্গা জায়গা ভালোমতো দেখা যায়না। মালামাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে আমাদের চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রশিদ নামের এক গার্মেন্টসকর্মী বলেন, বাড়ীর চারপাশ ডুবে গেছে, এখন রাস্তাও ডুবে যাচ্ছে। আগে আমরা এই রাস্তা দিয়ে ইজি বাইকে করে শহরে যেতাম, স্রোত বাড়ছে এবং রাস্তার ভাঙ্গনে এখন গাড়ি চলে না। বাধ্য হয়েই সময় বেশি নিয়ে পায়ে হেটে ভিজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পেলে রাস্তারও ক্ষতি হবে, আমাদেরও ভোগান্তি বাড়বে। 

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সালামত ফকির জানান, আগামী ২৪ জুলাই এর পর থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। 

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, রাস্তার যেই অংশ পানিতে ডুবে গেছে আমরা এগুলোর মেজারমেন্ট করছি। আগামী শনিবার প্রকল্পের পরিচালক টিম সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন করে তারা যেই সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সেভাবেই পরিস্থিতির মোকাবেলা করব।

ইত্তেফাক/এমএএম