তিন বছরেও মির্জাপুরে তিতাসের গ্যাসপাইপে ছিদ্র সারানো হয়নি

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ২৩:০০

তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের গ্যাস লাইনের পাইপ ফেটে প্রতিনিয়ত গ্যাস বের হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে গ্যাস বের হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় মহাসড়কের ওপর গ্যাস বের হওয়ার এমন ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবারও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের মাটি ভেদ করে গ্যাস বের হচ্ছে।

শ্রমিক নেতা মো. আশরাফ খান এবং মো. ফিরোজ হায়দার খান জানান, প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর আগে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত চার লেইনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়। মহাসড়ক দিয়ে তিতাসের পাইপ লাইন নেওয়া হলে চার লেইনের কাজের সময় পাইপ ফেটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া, মির্জাপুর উপজেলা সদরের মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, ক্যাডেট কলেজ ও হাঁটুভাঙ্গা বাস স্টেশনের গোড়াই হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় দিনরাত গ্যাস বের হচ্ছে।

মহাসড়কের ওপর হাটবাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত তিন বছর ধরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় বুদ্বুদ করে গ্যাস বের হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাস বের হওয়ায় মানবদেহের জন্য যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। এছাড়া যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, গোড়াই মূলত একটি শিল্পাঞ্চল। ছোটবড় মিলে অর্ধশতাধিক কারখানায় ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মরত এবং তারা মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে মহাসড়কে। গ্যাসের পাইপ ফেটে গ্যাস বের হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে এই ৫০ হাজার শ্রমিক। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. সুরুজ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুরের গোড়াইতে পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অপারেশন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপারেশন বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো রিপোর্ট দেয়নি। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গ্যাস লাইন দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।