মুজিববর্ষে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ, আর মধুপুরে বনের ১০ হাজার চারা কেটে সাবাড়

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ১৯:৪৭

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরাজির বিকল্প নেই। বিশেষ করে গাঙ্গেয় উপদ্বীপের এ বাংলাদেশে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডোসহ নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিত্য সঙ্গী। তাই বন ও বনায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কদিন আগেই দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশ জুড়ে গাছ লাগানোর সাঁজসাঁজ রব পড়ে গেছে। কিন্তু দেশে এর বিপরীত চিত্র ও দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে উপেক্ষা করছেন এক শ্রেণীর কথিত নেতাকর্মী। দেশের বৃক্ষরোপণ মৌসুমে দুর্বৃত্তায়ণের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংরক্ষিত বনভূমির দশ হাজার বনজ বৃক্ষ চারা কেটে সাবাড় করেছেন তারা।

এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বন বিভাগ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় হচ্ছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগ মধুপুর বনাঞ্চলের সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখলমুক্ত করে সেখানে উডলট মডেলে নতুন বনায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় গত ২০ জুলাই দোখলা রেঞ্জের সদর বিটের অরনখোলা মৌজার ৪৯৭ দাগের ১০ একর বনভূমি থেকে প্রভাবশালী মহলকে উচ্ছেদ করা হয়। পর দিন উদ্ধার করা বনভূমিতে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট উডলট মডেলে পুনঃবনায়নের কাজ শুরু করে। এ জন্য ১০ হাজার আকাশমণি প্রজাতির বনজ বৃক্ষ চারা সেখানে মওজুদ করা হয়।

মধুপুর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুলাই অরনখোলা গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর পুত্র শামসুল হক ফরিদের নেতৃত্বে ১৫/২০জন দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে হামলা চালায়। সেখানে কোন বনায়ন করা যাবেনা বলে হুমকি দেয়। দুর্বৃত্তরা বন কর্মীদের মারধোর করে দশ হাজার বৃক্ষ চারা কেটে বিনষ্ট করে।

দোখলা রেঞ্জ অফিসার অব্দুল আহাদ জানান, ওই দশ একর বনভূমি শামসুল হক গংরা কয়েক মাস আগে রাজনৈতিক পরিচয়ে জবরদখলে নিয়ে কলা বাগান করে। চারদিন আগে মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষকের নেতৃত্বে ওই কলা বাগান উচ্ছেদ করা হয়। এরপর নিজস্ব নার্সারীর চারা নিয়ে বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু পরদিনই ওই প্রভাবশালীরা সেখানে হামলা চালিয়ে রোপিত চারা এবং জমিতে স্তূপাকারে রাখা দশ হাজার চারা কেটে বিনষ্ট করে। সরকারি বনভূমি জবরদখল, বনজ সম্পদ ধ্বংস, বন কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন রেঞ্জার আব্দুল আহাদ।

মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল জানান, লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মধুপুরে জবরদখলকারিরা খুবই প্রভাবশালী। বনভূমি পুনরুদ্ধার করে তাতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে উডলট মডেলের বনায়ন করা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইত্তেফাক/আরএ