কেবল স্বাস্থ্য খাতই দুর্নীতি আক্রান্ত নহে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ২১:৩৪

সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, দেশের পত্রপত্রিকা এবং সামাজিক গণমাধ্যম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লুটপাট লইয়া সরব। ইহা অস্বাভাবিক নহে। বেশ কিছুকাল ধরিয়াই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবার যে চিত্র ফুটিয়া উঠিয়াছে তাহা জনগণকে হতাশ করিয়াছে এবং সরকারকে বিব্রত করিয়াছে। মূলত স্বাস্থ্য বিভাগের পুকুরচুরি লুটপাট, দুর্নীতির সংবাদ দেশে করোনা ভাইরাস ছড়াইয়া পড়ার পূর্ব হইতেই আসিতেছিল; কিন্তু এই ভাইরাস দেশে বিপত্তি ঘটাইবার পর সকলের নজরে আসে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলি। ফলে এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্তা হইতে শুরু করিয়া সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীই একটি নজরজালে পড়িয়াছে। সরকারও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করিতেছে এই অধিদপ্তরের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তবে সকলেই যে আইনের জালে ধরা পড়িবেন এমন কোনো ধরাবাঁধা নিশ্চয়তা নাই।

ইহা ঠিক যে, জাতির স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এই প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। এই প্রতিষ্ঠান ও ইহার সহিত সংশ্লিষ্ট প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলির অনিয়ম-দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমনের প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছিল; কিন্তু আমাদের প্রশ্নটি আরো একটু সম্প্রসারিত। দেশে দুর্নীতি নাই কোন সেক্টরে? কোন বিভাগকে আমরা পরিচ্ছন্ন বলিতে পারি? একদিকে সরকারি কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, অন্যদিকে সরকারি দলের কিছুসংখ্যক সদস্য যেন প্রতিযোগিতায় নামিয়াছে। আমরা ‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের’ কারণে ‘কিছু’ শব্দটি ব্যবহার করিলাম। বাস্তবে সংখ্যাটি খুবই হতাশাজনক। সকল কিছু দেখিয়া বুঝিয়া খোদ প্রধানমন্ত্রীই বারবার আক্ষেপ করিতেছেন, সতর্ক করিতেছেন এবং কঠোর নির্দেশ প্রদান করিতেছেন।

তবে চোর চলিয়া যাওয়ার পর বুদ্ধি হইবার বদলে চোর যেন ঢুকিতে না পারে সেই চেষ্টাই কি গৃহস্থের জন্য উত্তম নহে? দুর্নীতি পূর্বেও ছিল এখনো আছে। এই লাগামহীন দুর্নীতি-অনিয়ম হইতে দেশকে মুক্ত করিতে হইলে অনেক ভিতরে প্রবেশ করিতে হইবে। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োগ করিয়াই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা কখনোই সম্ভব নহে। ইহার জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন, শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা একান্ত প্রয়োজন। ইহার সহিত বর্তমানে যাহারা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হইতেছেন তাহারা যেন আইনের ফাঁক গলিয়া বাহির হইতে না পারেন সেই দিকে কঠোর দৃষ্টি রাখিতে হইবে। তাহা না হইলে এই দুর্নীতির পথ অনুসরণ করিবার লোক কখনো কমিবে না। মনে রাখিতে হইবে—সর্বদা সকল ক্ষেত্রে উপদেশ কাজে আসে না, উপদেশ শুনিতে বাধ্য করিতে হয়। অতএব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি অন্য সকল সেক্টরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক নজরদারি করিতে হইবে। একটি দেশে কেবল একটি প্রতিষ্ঠান একা স্বচ্ছ হইয়া উঠিতে পারে না।