প্রায় সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। বানভাসি মানুষের মাঝে হাহাকার বাড়ছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে জনগণের জানমাল রক্ষায় কী করণীয়? এই সম্পর্কে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের অভিমত আজ প্রকাশিত হলো
নদীমাতৃক বাংলাদেশে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি স্বাভাবিক ও সাংবাত্সরিক ঘটনা। এ জন্য দেশের সকল নদনদী ও খাল-বিলের নাব্য বৃদ্ধি, বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে টেকসই বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং অভিন্ন নদীগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে বন্যার পূর্বাভাসে আধুনিকায়ন আনা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজন জনসাধারণের সচেতনতা ও অধিক হারে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া। নিরাপদ পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে বন্যাপ্রবণ এলাকার টিউবওয়েলগুলো সর্বোচ্চ উঁচু জায়গায় স্থাপন করা বাঞ্ছনীয়।
আবু ফারুক
বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকারের ভূমিকাই প্রধান। দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য বাড়িয়ে পানির ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। নদী ভরাটের পথ বন্ধ করে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে হবে। এ ছাড়া স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং অধিক বন্যাপ্রবণ এলাকায় কৃষিকাজের জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতের ওপর জোর দিতে হবে। মানুষের গৃহপালিত পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ি, চট্টগ্রাম
বিভিন্ন কারণে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে সময় লাগে। পরিস্থিতির উন্নয়নে নদনদীর নাব্যতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধিতে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় নদী শাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া মানসম্পন্ন বেড়িবাঁধ তৈরির সঙ্গে সঙ্গে নদনদীগুলোকে দখলমুক্ত করতে হবে। নদনদী ও খালবিলের পানির স্বাভাবিক গতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে রাস্তাঘাট, সেতু ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করতে হবে। আগেভাগে পূর্বাভাস প্রদান করে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের অস্থাবর সহায়-সম্পত্তির নিরাপদ স্থানান্তরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অগ্রগণ্য।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
ধ্রুবনীল এন্টারপ্রাইজ
সারা দেশে রাক্ষুসী বন্যা হানা দিয়েছে, গ্রাস করেছে হাজার হাজার পরিবারসহ মানুষের ঘরবাড়ি, পথঘাট, হাটবাজার। গৃহপালিত পশুসহ জানমাল নিয়ে বানভাসিদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শেষ নেই। এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগে বানভাসিদের জানমাল রক্ষায় দুই-তিনতলার বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র করে দেওয়া, সম্ভব হলে প্রতিটি পরিবারকে চলাচলের জন্য একটি করে নৌকা দেওয়া; শুকনো, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং এককালীন (সাময়িকভাবে) আর্থিক সহায়তা প্রদান করা খুবই জরুরি।
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ
করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
বন্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতিবছরই বন্যা হয়ে থাকে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। এলাকার ড্রেন পরিষ্কার রাখতে হবে। নদী-নালা নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। বন্যা এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হোক।
ফাহাদ, যশোর
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে বানভাসি মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয় জলের তীব্র সংকটে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। বন্যার এ সময় মানুষ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় বিশুদ্ধ পানির অভাবে। এখন পর্যন্ত বন্যায় সারা দেশে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন রক্ষা করাই আমাদের প্রধান করণীয় বিষয়।
সাদিয়া সুলতানা, সাভার, ঢাকা
মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। জানমাল বাঁচাতে নড়বড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত করতে হবে ভালোভাবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা খুলে দিতে হবে দুর্গতদের বাঁচানোর জন্য।
সালেহা আফরিন বেবী, শিবগঞ্জ, সিলেট
মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই বন্যা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। কষ্টের মধ্যে আরো দুঃখ-কষ্ট। পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, কুশিয়ারা, সুরমা ইত্যাদি অববাহিকার নদনদীতে পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। দেশের প্রধান নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রবল স্রোতে পানির সংযোগ পাইপ, গভীর নলকূপ ও কুয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সর্বত্র বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাই জরুরিভিত্তিতে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় মানবেতর জীবনযাপনরত বানভাসি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণতত্পরতা, শুকনা খাদ্যসামগ্রী প্রদান, আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা ও চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক।
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা
বন্যা এ দেশে নতুন কোনো দুর্যোগ নয়, প্রতি বছরই কম-বেশি বন্যা দেখা দেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ বা বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া নদী খননের মাধ্যমে উজান থেকে বেয়ে আসা পলি নিয়মিতভাবে ও দ্রুত অপসারণ করা না হলে ভবিষ্যতে দেশে বন্যার প্রকোপ ও ব্যাপ্তি ক্রমেই বাড়তে থাকবে।
বিলকিছ আক্তার
কাউনিয়া, রংপুর
বন্যাপ্রকোপ এলাকায় শুকনা খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ইত্যাদি প্রাণরক্ষা-সহায়ক উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ত্রাণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শুধু সরকারি ত্রাণতত্পরতা নয়, বেসরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন। দেশের ব্যবসায়ী সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত উদ্যোগ এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর
বন্যাকবলিত এলাকার শিশু, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধসহ সকলকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ডাক্তার, নার্সদের সমন্বয়ে ডিজিসেন্স টিম গঠন করে বানভাসি লোকদের মাঝে প্রয়োজনে শুষ্ক বা রান্না করা খাবার অথবা ত্রাণ পৌঁছানোসহ চিকিত্সার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। আশ্রিত লোকজনের গবাদি পশু, পাখি, অন্যান্য মালামালের সুরক্ষার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি প্রত্যেক এলাকার সমাজসেবী এবং বর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের দানশীলতায় অগ্রণী ভূমিকা থাকলে দুর্যোগ লাঘব সহজ হবে।
মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
বর্ষা এলেই রাজধানীসহ সারা দেশ পানিতে তলিয়ে যায়। এ যেন পুরোনো সব বছরেই দৃশ্যমান। আর এই পরিস্থিতির অবনতির জন্য এক সংস্থা আরেক সংস্থার ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেয়। অথচ প্রতি বছরই রাজধানীবাসী জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাবার প্রতিশ্রুতি পায়। কিন্তু বাস্তবে মুক্তি মেলে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাময় ঘটনা বটে।
অ্যাড. এসএকে মো. রমিজউদ্দিন
কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
কথায় বলে ক্ষুধার জ্বালা বড় জ্বালা, এই জ্বালার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে উত্তরবঙ্গের বানভাসি মানুষ। সরকারের উচিত এই অঞ্চলের বন্যার্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো।
সিফাত কোরবান
চকতাতাদীর, মনোহদী, নরসিংদী
জলাবদ্ধতা নগরবাসীর নিয়তি। প্রতি বছরই জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতেই হয়। এর থেকে নগরবাসীর রেহাই নেই যেন। তাই এই বিষয়টিকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে।
মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন
হাইমচর, চরভৈরবী
একটানা বৃষ্টিপাতে তৃতীয় দিনের মতো পানিতে ভাসল তিলোত্তমা ঢাকা। বেশির ভাগ সড়কেই হাঁটুপানি, ফুটপাতেও থইথই পানি। এরমধ্যে দিনের পথচারী, যাত্রী সবাইকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এ যেন মনে হয় দেখার কেউ নেই। এরমধ্যে কোথাও কোথাও ম্যানহোলের ঢাকনা নেই যা এই সময় বড় ভয়ংকর। সেখানে বিশেষ চিহ ও নির্দেশনা দেওয়া দরকার।
শিশির, পিলখানা, ঢাকা
আমাদের দেশে বন্যা প্রতিরোধক ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড উপকূল অঞ্চলে বাধ নির্মাণে করে কিন্তু সামান্য আঘাতে তা ভেঙে যায় এবং বন্যার পানির স্রোতে তলিয়ে যায় শত শত গ্রাম। এর নেপথ্যে রয়েছে দুর্নীতি। অন্যদিকে ফারাক্কায় যে বাঁধ দেওয়া আছে সেটার গেট ভারতীয়রা ছেড়ে দেয়। যখন আমাদের পানির প্রয়োজন নেই তখন তারা এটা করেন। আবার যখন আমাদের ভূমি পানির অভাবে মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করে, তখন তারা পানি ছাড়েন না। আমাদের নগর ব্যবস্থাও অপরিকল্পিত। সামান্য বৃষ্টিতেই বন্যার সৃষ্টি হয়। এটা নতুন কিছু নয়, নিয়মিত ঘটনা। এর নেপথ্যেও রয়েছে দুর্নীতি। এজন্য দেশের টেকসই উন্নয়নে দরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত জবাবদিহিতামূলক দক্ষ সরকার।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
বারিধারা, গুলশান, ঢাকা
রাজধানী ঢাকা পরিকল্পনাহীনভাবে বেড়েছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না বেড়ে এর আকার আয়তন বেড়েছে। তার সঙ্গে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর অবহেলা যোগ হয়েছে। অথচ নাগরিক সেবা বাড়ানোর জন্য রাজধানীতে দুটি সিটি করপোরেশন করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় সেবা? তাই সবার মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্ট:, ঢাকা
রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করার দায়িত্ব ওয়াসারই বেশি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তাদেরই মূল দায় রয়েছে। নালা পরিষ্কার করে বর্জ্য ফেলা হয় ফুটপাতে বা যেখানে সেখানে। খালগুলো দখল হয়ে গেছে অনেক দিন আগেই। ঢাকার চারপাশের নদনদী দূষণে বিপর্যস্ত। এ কারণেই যখন বৃষ্টিপাত হয় রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকা তলিয়ে যায়। এই দুর্যোগে জানমাল রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন।
সুলতানা জামান, মানিকনগর, ঢাকা
জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ একক কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা মনে করি অযোগ্য সংস্থার হাতে জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্বভার অর্পণ না করাই উত্তম। আমরা চাই এর স্থায়ী সমাধান।
আল মায়ামী, ফুলবাড়িয়া, সাভার
দুর্যোগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা একান্ত প্রয়োজন। কেননা নিজেরা সতর্ক থাকলে এই দুর্যোগের অর্থাত্ এই বন্যার হাত থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যায়। যার তদারকির দায়িত্ব আমাদের দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ওপর অনেকটা বর্তায়। তারা যদি দেশের বানভাসি জনগণকে সঠিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন তাহলে এ বিষয়ে অনেকটা সফলতা অর্জন করা যেতে পারে। এই দুর্যোগের সময় মহান আল্লাহপাকের নিকট ক্ষমা চাইতে হইবে।
আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
হাউজিং স্টেট, রাজশাহী
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির পূর্বাভাস দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ প্রেরণ এবং তাদের পুনর্বাসনের বিকল্প নেই। এমনিতেই করোনার কারণে বহু মানুষের আয়-রোজগারের পথ হয়ে গেছে বন্ধ। তার ওপর বন্যার কারণে অনেকের বাসস্থান, কৃষিক্ষেত্র, গবাদিপশু ও মত্স্য চাষের ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। সরকারের অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হকভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা
ভৌগোলিক দিক থেকে আমাদের দেশ অধিক দুর্যোগপ্রবণ। ঝড় জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা আমাদের নিত্যসঙ্গী। দেশে বন্যা পরিস্থিতি দিনদিন অবনতি হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই গণসচেতনতার পাশাপাশি জানমাল রক্ষায় টেকসই উঁচুবাঁধ ও আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। গুরুত্ব দিতে হবে সবুজ বনায়নের ওপর। বন্যাকবলিত এলাকায় সঠিক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সরকারি ত্রাণ, শুকনো খাবার, শিশু ও গোখাদ্য এবং নগদ অর্থ বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে।
মো. সাইমুন
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম
একদিকে বন্যা, অপরদিকে করোনায় মানুষ জান-মাল নিয়ে চিন্তিত। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বংশাই, ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর ভাঙনে গাছপালা, জমিজমা, ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানিতে ঘরবন্দি হয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছে বন্যাদুর্গতরা। মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্চ, রংপুর, ময়মনসিং, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার চারপাশে বন্যার পানি বাড়ছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষকে স্বাস্থ্যবিদি মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।
জিয়াউল হক সরকার
পূবাইল,গাজীপুর
