নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ২১:৩৯

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে সাগরে মাছ ধরা শুরু হচ্ছে। এ জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন উপকূলের জেলেরা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা সমুদ্রে নামতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। মত্স্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আজিজুল হক জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে।

বাগেরহাটের কেবি ঘাট, শরণখোলা, মোংলা প্রভৃতি স্থানে হাজার হাজার জেলে মাছ ধরার জন্য সমুদ্র যাত্রার প্রস্তুতি শেষ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এসব জেলেরা উপকূল থেকে সাগরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত ইলিশ সংরক্ষণ ও উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে শরণখোলা উপজেলার রাজৈর মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে ট্রলারগুলো নোঙ্গর করে আছে সাগরে যাওয়ার অপেক্ষায়। ট্রলারে জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্যসামগ্রী তুলছে জেলেরা। সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে। মত্স্য আড়তগুলোতেও মহাজনরা হিসাব-নিকাশ করছেন জেলেদের নিয়ে। এ সময় মত্স্য আড়তদার মো. মুজিবর তালুকদার, মো. কবির হাওলাদার, মো. জামাল হাওলাদার জানান, অবরোধ চলাকালে জেলেদের খোরাকি হিসেবে অগ্রিম দেওয়া এবং জাল-ট্রলার মেরামত করতে গিয়ে অনেক ব্যয় হয়েছে। ট্রলার সচল থাকলে এই বাড়তি খরচটা হতো না। বাগেরহাট জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মত্স্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, জেলায় গভীর সাগরে ইলিশ আহরণে নিয়োজিত দেড় সহস্রাধিক ফিশিং ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে শরণখোলাতেই রয়েছে ৬০০ ট্রলার। এসব ট্রলার সকল প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে যাওয়ার অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইলিশের চাহিদা পূরণে সরকারের বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্তকে অমান্য করে উপকূলের বহু অসাধু জেলে সাগরে ইলিশ শিকার করেছে। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক বলেন, অবরোধের কারণে দিন দিন ইলিশের উত্পাদন বাড়ছে।