পাঁচবিবির পাথরঘাটা ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ২১:৪১

পাঁচবিবি উপজেলার পাথরঘাটার কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া তুলসীগঙ্গা নদীর ব্রিজটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলজিইডির আওতাধীন ব্রিজটির অনেক জায়গায় পাটাতনে ফাটল ও দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে উপজেলার মঠপাড়া, বিদ্দিগ্রাম, বেলপুকুর, সাড়ারপাড়, উচাই, কাশাবাড়ী, বাগড়া, কাঁটাপুকুর, নয়াপাড়াসহ আশপাশের ১৫/২০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ।

কাঁটাপুকুর গ্রামের ছানোয়ার হোসেন, মঠপাড়া গ্রামের বিরেন চন্দ্র ও পীরপাল গ্রামের ফ্রান্সিস মার্ড্ডী বলেন, ১৯৫০ সালের দিকে ফাদার জভান্নী ভানজেত্তি পিমে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে পাথরঘাটায় এসেছিলেন। সে সময় তিনি এলাকার খ্রিষ্টানদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তুলসীগঙ্গা নদী সাঁতরিয়ে পার হয়ে আসত। তাদের এমন কষ্টের কথা চিন্তা করে প্রথমে তিনি তালগাছের বরগা ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে যাতায়াতের সেতু নির্মাণ করেন। পরে পূর্ব এলাকার শিক্ষার্থী ও লোকজনের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ঐ ফাদার ১৯৫৭ সালে পাকা ব্রিজ নির্মাণ করেছিলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত বছর আগে নির্মিত এই  ব্রিজের অর্ধেক রেলিং দীর্ঘদিন যাবত্ নেই। এছাড়াও ব্রিজের অনেক জায়গা ভাঙা ও ফাটল ধরেছে। এমন ভঙ্গুর ব্রিজের ওপর দিয়েই প্রতিদিন হাজারও পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী চলাচল করে। অপর দিকে ধান, ভারী মালামাল বোঝাই ছোট পিকআপ, মেসি-ট্রাক্টর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আটাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আ স ম সামছুল আরেফীন আবু চৌধুরী বলেন, এটি বহু পুরোনো ব্রিজ। নতুন ব্রিজের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছি, চিঠিও দিয়েছি।  উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির টেন্ডার প্রক্রিয়া করোনার কারণে আটকে আছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কার্যক্রম শুরু হবে।