বগুড়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ২১:৪২

বগুড়া শহরের ৯টি এলাকা ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে ৩৮ দিন লকডাউন করে রাখা হলেও করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমার পরিবর্তে আরো বেড়েছে। যে জন্য রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছিল তা কাজে আসেনি। এজন্য সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনকেই দোষারোপ করছে। তারা বলছেন, ‘রেড জোন’ আর ‘লকডাউন’ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জনগণ অবাধে চলাচল করেছে। আর সে কারণেই করোনার সংক্রমণ না কমে উলটো বেড়েছে।

বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল প্রথম কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। তারপর থেকে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে ১০ মে মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো খুলে দেওয়ার পর তা লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে এবং ১০ জুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারিশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্তের হার বেশি শহরের—এমন ৯টি এলাকাকে গত ১৪ জুন থেকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়। এগুলো হলো:চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া, সুত্রাপুর, নারুলী, ঠনঠনিয়া, হাড়িপাড়া, মালতিনগর, জলেশ্বরীতলা ও লতিফপুর (কলোনী)। রেড জোনের আওতাভুক্ত ঐ এলাকাগুলোতে ‘লকডাউন’ কার্যকরের জন্য সবগুলো প্রবেশপথে ব্যারিকেডও দেওয়া হয়। প্রথম দফায় ঘোষিত ‘রেড জোনে’র মেয়াদ ৫ জুলাই পর্যন্ত রাখা হলেও করোনার সংক্রমণ না কমায় পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘রেড জোনে’র আওতাভুক্ত কোনো কোনো এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার আগের তুলনায় ২৮৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দফায় টানা ৩৮ দিন ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেও শহরের ৯টি এলাকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসার বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকেও ভাবিয়ে তুলেছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা বগুড়ার স্থানীয় একটি সংগঠন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দুই দফায় ‘রেড জোন’ ঘোষিত ঐ ৯টি এলাকায় টানা ৩৮ দিন ‘লকডাউন’ রাখা হলেও করোনার সংক্রমণ কমেনি বরং বেড়েছে। যেমন শহরের চেলোপাড়া মহল্লাকে রেড জোনের আওতাভুক্ত করার আগ পর্যন্ত সেখানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭৪ জন। আর ‘রেড জোনে’র শেষ দিন ২১ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১৮ জন। একই সময়ের মধ্যে সুত্রাপুর এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৬। বৃদ্ধির হার ২৮৪ শতাংশ। একইভাবে শহরের অভিজাত জলেশ্বরীতলা এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ থেকে ৯৮, নারুলীতে ২৬ থেকে ১০০, নাটাইপাড়ায় ২৯ থেকে ৬৯, ঠনঠনিয়ায় ৩৬ থেকে ১১২, মালতিনগরে ৪৬ থেকে ১০৭, লতিফপুরে (কলোনী) ২৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৯ জন। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বগুড়ার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুর রহমান হেলালের অভিযোগ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘রেড জোনে’র ঘোষণা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। এটি যথাযথ কার্যকরের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যে কারণে ‘রেড জোন’ ঘোষিত এলাকার লোকজন অবাধে চলাফেরা করেছে। তাই করোনার সংক্রমণ না কমে উলটো বেড়েছে।‘রেড জোন’ ঘোষিত এলাকাগুলোতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘এ জেলায় নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। ফলে শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে এটা অন্যতম একটা কারণ হতে পারে’। বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক ‘রেড জোন’ কার্যকরে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সব পদক্ষেপই গ্রহণ করেছি’।