বিভিন্ন দূতাবাসে ‘পুলিশ অ্যাটাশে’ নিয়োগের সুপারিশ আসছে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ২২:৪৭

মানব পাচার ঠেকাতে এবং পাচার হয়ে যাওয়া হতভাগ্যদের ফিরিয়ে আনতে সহায়তার জন্য বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে পুলিশ অ্যাটাশে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ আসছে। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর দূতাবাসে এ পদটি থাকলেও বাংলাদেশে নেই। যার ফলে মানব পাচারসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মানব পাচারের ঘটনার মামলা তদন্ত করার সময় বেশ কিছু অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। পাচারকারী দলের স্থানীয় এজেন্টকে শনাক্ত করা গেলেও যারা বিদেশে অবস্থান করে তাদের আইনের আওতায় আনা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে পুলিশ অ্যাটাশে না থাকায় বাংলাদেশ পুলিশকে ঐ সব দেশের পুলিশের ওপর নির্ভর করতে হয়। এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) থাকলেও তথ্য আদানপ্রদানে জটিলতাও রয়েছে।

সম্প্রতি মানব পাচারসংক্রান্ত পুলিশের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় পুলিশ অ্যাটাশে না থাকায় যে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে যেসব দেশের দূতাবাস রয়েছে, সেগুলোতেও পুলিশ অ্যাটাশে রয়েছে। তাদের যে কোনো তথ্য দরকার হলে তারা বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এতে কাজটি সহজ হয়ে যায়। কারণ, দূতাবাসের অন্যান্য      কর্মকর্তার চেয়ে দুই দেশের পুলিশের আন্তঃযোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে থাকে।

সিআইডি পুলিশের একটি ইউনিট অর্গানাইজড ক্রাইমের বিষয়টি দেখে থাকে। এ ইউনিটের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের এ বিভাগে সারাদেশ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসে। অনেকে এমন অভিযোগও নিয়ে আসে যে, তার স্বজন বা আত্মীয়কে পাচারকারীরা একটি দেশে জিম্মি করে রেখেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশে যদি পুলিশ অ্যাটাশে থাকত, তাহলে আমরা বিষয়টি সেখানে সরাসরি জানালে একটি ইতিবাচক ফল আসত। কারণ, পুলিশ অ্যাটাশে সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাচার হওয়া হতভাগ্যদের উদ্ধার করতে পারতেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।