মধুপুরে সংরক্ষিত বনভূমির ১০ হাজার চারা নষ্ট

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ২২:৪৭

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করার দুই দিন পরই সেখানে পুনর্বনায়নের উদ্দেশ্যে বন বিভাগের মজুত করে রাখা ১০ হাজার বনজ বৃক্ষ চারা কেটে নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বন বিভাগ। 

জানা যায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগ মধুপুর বনাঞ্চলের সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখলমুক্ত করে সেখানে উডলট মডেলে নতুন বনায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২০ জুলাই দোখলা সদর বিটের অরনখোলা মৌজার ৪৯৭ দাগের ১০ একর বনভূমি থেকে প্রভাবশালী মহলকে উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা বনভূমিতে বন বিভাগ পরদিন উডলট মডেলে পুনঃবনায়নের কাজ শুরু করে। এজন্য ১০ হাজার আকাশমনি প্রজাতির বনজ বৃক্ষ চারা সেখানে মজুত করা হয়। থানায় লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুলাই অরনখোলা গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর পুত্র শামসুল হক ফরিদের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত সেখানে হামলা চালায়। তারা বনকর্মীদের মারধর করে ১০ হাজার বৃক্ষ চারা কেটে বিনষ্ট করে। দোখলা রেঞ্জ অফিসার আবদুল আহাদ জানান, ওই ১০ একর বনভূমি শামসুল হক গংরা রাজনৈতিক পরিচয়ে জবরদখল করে সেখানে কলাগাছ লাগায়। চার দিন আগে একজন সহকারী বন সংরক্ষকের নেতৃত্বে ওই কলা বাগান উচ্ছেদ করা হয়। এরপর নিজস্ব নার্সারির চারা নিয়ে বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু পরদিনই তারা হামলা চালিয়ে জমিতে স্তূপ করে রাখা ১০ হাজার চারা কেটে বিনষ্ট করে। সরকারি বনভূমি জবরদখল, বনজসম্পদ ধ্বংস, বনকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় তিনি মামলা করেছেন। মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল জানান, লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জবরদখলকারীরা খুবই প্রভাবশালী। বনভূমি পুনরুদ্ধার করে তাতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে উডলট মডেলের বনায়ন এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।