অণুরূপকথা

কে ভালো কে মন্দ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ২১:৪৬

এক বনে থাকত এক বনমোরগ আর এক পেঁচা। তারা ছিল একজন আরেকজনের পড়শি। পেঁচা তার পরিবার নিয়ে থাকত এক বটগাছের খোড়লে। আর বনমোরগ পরিবার থাকত ঐ গাছের একটু পশ্চিমে ঝোপঝাড় দিয়ে বাসা বানিয়ে। বনমোরগ প্রতিদিন পেঁচার কাছে আসত। আর সংসারের কাজ গুছিয়ে সময় পেলে পেঁচিও আসত বনমোরগির কাছে। একটু বসত। গল্প করত। এভাবে দুই পরিবারের মধ্যে দারুণ সখ্য গড়ে উঠেছিল। পেঁচি কথায় কথায় ছড়া কাটত। তাই বনমোরগি বনমোরগ দুজনই পেঁচির ভক্ত। তারা এমনকি পেঁচাও যা সমাধান দিতে পারত না, পেঁচি তা করে দিত ছড়ায় ছড়ায়। এবং উভয় পক্ষই মেনে নিত তার রায়। শুধু এই দুই পরিবারের বিচার-আচারই নয়, বনের অন্য পাখিরাও সমস্যায় পড়লে ছুটে আসত পেঁচির কাছে।

একে তো খোড়লের ভেতর থাকে, তার ওপর পেঁচার বয়স একটু বেশি হওয়ায় একা একা বনে বেড়ানোর সাহস পেত না। আর পেঁচা রাত ছাড়া দিনে দেখেও না। তাই বনমোরগ রাতে বনে বেড়ানো বা খাবার জোগাড়ের সময় পেঁচাকে সঙ্গে নিত। এভাবেই চলছিল দুই পরিবারের বন্ধুতা।

হঠাত্ একদিন ‘কে ভালো কে মন্দ’ এই তর্কে দুজনের মধ্যে তুমুল হইচই। পালটাপালটি কথা চলল দীর্ঘক্ষণ। হাতাহাতির পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছল তাদের ঝগড়া। এর মধ্যে অন্য পাখিরাও এসে ভিড় করল। কোনো কোনো পাখি দর্শক হয়ে তামাশা দেখতে থাকল। দু-চারটি পাখি ঐ দুজনের মধ্যে বিবাদ মেটাতে গিয়ে ব্যর্থ হলো। এমন সময় পেঁচার মনে পড়ল পেঁচির কথা। পেঁচির কাছে গেলেই একটা সমাধান মিলবে।

পেঁচা বনমোরগকে পেঁচির কথা বলতেই বনমোরগও রাজি হয়ে গেল। পেঁচার স্ত্রী হলেও পেঁচির ওপর আস্থা আছে বনমোরগের। অন্যান্য পাখিও মত দিল। সবাই পেঁচির কাছে গিয়ে হাজির হলো। পেঁচিকে দুবন্ধুর মধ্যে ঝগড়ার কারণ জানানো হলে সে বলল, আপনারা যখন আমাকে বিচারক বানিয়েছেন, তাহলে আমি বিচারের রায় লিখে কপিটা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। পেঁচি পাঁচ মিনিট পর রায়ের কপি হাতে উপস্থিত হলো। সবার অনুমতি নিয়ে ছড়ার মাধ্যমে রায় উপস্থাপন করল পেঁচি:

বনের শোভা বনমোরগ

আর মথুরার শোভা কালো

গোলগাল আমার মুখখানিতে

পেঁচাই খুব ভালো।