করোনাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে অসংখ্য কুসংস্কার, গুজব ছড়িয়েছে ইন্টারনেটে। করোনাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মিডিয়া লাইক ও বিজ্ঞাপন পাওয়ার আশায় গুজবের বাণিজ্য করছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যে গতিতে ছড়িয়েছে একই গতিতে ছড়িয়েছে সব অপপ্রচার আর ভুল ব্যাখ্যা। আর এসব ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে সব জায়গায়। করোনা যদিও একটি সংক্রামক রোগ কিন্তু এ রোগ হলেই যে মানুষ মারা যাবে বা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে, সেটি ঠিক নয়। করোনা সম্পর্কে মানুষ জানতে চায় আসলে তাদেরকে কী কী সচেতনতা গ্রহণ করতে হবে, কী কী নির্দেশনা মানতে হবে। আর এসব তথ্য খুঁজে পেতে মানুষ ইন্টারনেটের ওপর ভরসা করে। যারা শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক তারা ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাইবাছাই করে পরে হয়তো কোনো কিছু বিশ্বাস করেন বা সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশের বড় একটি অংশের মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তারা শিক্ষা ও প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসার সুযোগ পান না। ফলে কুসংস্কার আর গুজবের শিকার হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই শ্রেণির লোকজন। করোনার কারণে আমাদের দেশে সামাজিক স্টিগমাগুলো অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সাধারণ মানুষ দোয়া পড়েন, বিশেষ প্রার্থনা করেন তাতে কোনো অসুবিধা নেই। এরকম জাতীয় সংকটে দোয়া বা বিশেষ প্রার্থনা খুবই ভালো বিষয়। তবে দোয়ার সঙ্গে দাওয়ারও প্রয়োজন। ইসলামেও নিজের জীবনের সুরক্ষা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং দোয়া বা ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে চিকিত্সকদের দেওয়া পরামর্শ ও স্বাস্থ্য-সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
করোনা প্রতিরোধ নিয়ে দেশে উল্লেখযোগ্য কিছু অপপ্রচার ও গুজবের মধ্যে ছিল— থানকুনিপাতা খেলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, করোনার ওষুধ দিয়েছে এক নবজাতক, স্বপ্নে পাওয়া করোনার ওষুধ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষের আদিম জাতির মতো একসঙ্গে উচ্চ স্বরে আওয়াজ তুলে ভাঙা টিন, থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল ও ঢোল পিটিয়ে শব্দ করে করোনা তাড়ানো, করোনা তাড়াতে কবুতর চালান ইত্যাদি। স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে, মানুষ কেন গুজব রটায়! সাধারণ মানুষও কেন গুজবে সায় দেয়, গুজব রটাতে পছন্দ করে! সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের আগ্রহ আছে এমন বিষয়েই সাধারণত গুজব ছড়ানো হয়। যারা আতঙ্কে থাকেন তারা অনেকেই গুজবে বিশ্বাস করেন নিজেদের অনিরাপত্তা দূর করার জন্য।
সামাজিক যোগাযোগের এই যুগে গুজব ছড়ানো খুবই সহজ কাজ। মনমতো যে কোনো একটি মিথ্যা তথ্য ভাইরাল করতে পারলেই হলো। করোনা নিয়ে গুজব ঠেকানোর জন্য বলা হচ্ছে, অনলাইনে কিছু ছাড়ার আগে বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে একে পরীক্ষা করে দেখা দরকার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। তবে এসব পরীক্ষানিরীক্ষা করার ইচ্ছেটা সবার থাকে না, সবার দ্বারা সম্ভবও নয়।
লেখকদ্বয় :গবেষক
