ভিশন :গ্রিন বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ২২:১৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান কৃষি বিশেষজ্ঞ ও কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা একটা সংগঠন ‘A green: Aim for a Green Bangladesh’-এর লাইভ অনুষ্ঠানে একটা গল্প বলেছিলেন। গল্পটিতে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। সে পরিবারে ছিল তিন ছেলে আর তাদের মা। ঐ মা তাঁর তিন ছেলেকেই যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। কিছুদিন পরে একটি কফিনে করে এক সন্তানের লাশ এলো এবং ধর্মীয় রীতিতে তার সত্কার করা হলো। সত্কার শেষে গ্রামবাসী তার মাকে অনুরোধ করেন যেন ছেলের কবরের কাছে একটি গাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়—যেটা ছেলেটার মৃত্যু এবং ঐ মায়ের সর্বোচ্চ ত্যাগের স্মৃতি যুগ যুগ ধরে বহন করবে। কথামতো তিনি একটি গাছ লাগালেন এবং একে একে তাঁর দুটি সন্তানও যুদ্ধে মারা গেল এবং সবার কবরেই একটি করে গাছ লাগিয়ে দিলেন।

গল্প শেষে মাননীয় সাবেক গভর্নর প্রস্তাব করেন যে, আমরাও যদি সরকারিভাবে আমাদের ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ মা-বোনের ত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর ৩২ লাখ গাছ লাগাতে পারি, তাহলে আমাদের দেশটা সবুজে সবুজে ভরে যাবে।

‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ কোটি চারাগাছ রোপণ করার কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ১৬ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের মোট ৪৯২টি উপজেলার প্রতিটিতে ২০ হাজার ৩২৫টি করে চারাগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের এ কর্মসূচির ৫০ শতাংশ অর্থাত্ অর্ধেকই থাকবে ফলের গাছ; যাতে করে ভবিষ্যতে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।

সরকারের এ বৃহত্ কর্মসূচি যদি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের প্রস্তাব অনুযায়ী এ ধরনের কর্মসূচি যদি প্রতিবছরই চলমান থাকে, তাহলে পুরো বিশ্বের জলবায়ু সংকট না ঠেকাতে পারলেও ভবিষ্যতে অন্তত নিজ দেশকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দরকার সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর জনসাধারণের দেশপ্রেম। বর্তমানে বাংলাদেশ Demographic Dividend-এর সুফল ভোগ করছে অর্থাত্ দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশের ওপরে কর্মক্ষম জনগণ রয়েছে যাদের বয়স ১৪ থেকে ৬৪ বছর। দেশের স্থানীয় সরকার যেমন: জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি কর্মকর্তাগণ এ ধরনের মহত্ ও বৃহত্ কর্মযজ্ঞে স্থানীয় দক্ষ যুবসমাজকে কাজে লাগাতে পারে। তাহলেই একদিন হয়তো আমাদের এ দেশটা  গ্রিন বাংলাদেশ নামে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে। পরিশেষে, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের  একটি বিজ্ঞাপনের উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করতে চাই:

‘মানুষ বাঁচে আশায়

দেশ বাঁচে ভালোবাসায়’

ঢাকা