চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর চেংডুর মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছে চীনের কর্তৃপক্ষ। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের নিকটবর্তী হওয়ায় এই কনস্যুলেটটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চীন-মার্কিন সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। বেইজিং মাইক পম্পেরওর সমালোচনা করে বলেছে, তার তত্পরতা পিঁপড়ার গাছ নাড়ানোর বৃথা চেষ্টার মতোই। এদিকে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসি ও ডয়চেভেলের
চীনের প্রতিশোধ
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কনস্যুলেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া অযৌক্তিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় যথাযথ এবং জরুরি পদক্ষেপ। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি যেরকম, চীন তা চায় না। এর পুরো দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রের। চেংডুর মার্কিন কনস্যুলেট ১৯৮৫ সালে স্থাপন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে দুই শতাধিক মানুষ কাজ করে।
পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর মন্তব্যের জবাবে গতকাল চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য দফতরের মুখপাত্র হুয়া চুনইংয়ের টুইটার হ্যান্ডলে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার রিচার্ড নিক্সন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে পম্পেওর মন্তব্য শুনে মনে হয়, তিনি নিজেকে একবিংশ শতাব্দীর জন ফস্টার ডুলস হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। বিশ্ব জুড়ে কমিউনিস্ট চীনের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করতে চাইছেন। কিন্তু এমন প্রয়াস গাছকে নাড়ানোর জন্য পিঁপড়ার প্রয়াসের মতোই নিরর্থক। পঞ্চাশের দশকে প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের আমলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডুলস কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, মাইক পম্পেও চীনবিরোধী একটি জোট গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আমেরিকায় আটক তিন চীনা গবেষক
অভিযুক্ত চার জনের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একজন পালিয়ে সান ফ্রান্সিসকোর কনস্যুলেট অফিসে লুকিয়ে আছেন। তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের অভিযোগ, চার জনই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ভিসার আবেদনে সে কথা তারা গোপন করেছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বৈজ্ঞানিকদের আমেরিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে চীন। তারই অংশ হিসেবে তারা আমেরিকায় এসেছিলেন।
