চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটে এবার গরু-মহিষের চাহিদা প্রায় ৮ লাখ বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা। এ চাহিদা মেটাতে দেশের নানা স্থান থেকে গবাদিপশু, বিশেষ করে গরুর চালান আসতে শুরু করেছে চট্টগ্রামে। ক্রেতাদের সমাগম অবশ্য এ সময়টাতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। হাতে আছে ঈদুল আজহা উদ্যাপনের এক সপ্তাহেরও কম সময়। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি বলে জানালেন গরু ব্যবসায়ী, হাট ইজারাদার ও ব্যাপারীরা। তারা মনে করছেন ঈদের দুই-তিন দিন আগেই নামবে ক্রেতাদের ঢল। তবে এবার মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধির নানা কড়াকড়ি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা ইত্তেফাককে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখার জন্য নগরীর প্রতিটি কোরবানির পশুর হাটে করপোরেশনের একটি করে টিম নিয়োজিত থাকবে। একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে প্রধান করে অন্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত এ টিমসমূহ প্রতিদিন কাজ করবে। পশুর হাটে লোক সমাগম যত বেশিই হোক না কোনো, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা যাবে না। শৃঙ্খলার মধ্যে যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা থাকতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি কমিটিকে সহায়তা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির পশুর হাটে গবাদিপশু কেনাবেচায় কড়াকড়ি রয়েছে। তার ওপর সচ্ছল ক্রেতাদের অনেকেই এবার চট্টগ্রামের অর্ধশত গরুর খামারের গরু খামারিদের অস্থায়ী বিক্রয় শেড থেকে অনলাইনে কোরবানির পশু কিনে নিচ্ছেন বলে চট্টগ্রামের উন্মুক্ত স্থায়ী-অস্থায়ী বাজারগুলোতে চিরাচরিত চেনা ক্রেতাসমাগমের দৃশ্যটি এখনো দেখা যাচ্ছে না বলে জানান বিবিরহাট স্থায়ী গরুর বাজারের ইজারাদারের মাঠ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রবীণকর্মী কাউসার আহমদ। অনলাইন কেনাকাটা শুরু হয়েছে আরো ১৫-২০ দিন আগে থেকে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট ছাড়াও আরো চারটি অস্থায়ী বাজার বসেছে। অস্থায়ী বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী গরুর হাট, কমল মহাজন হাট, সল্টগোলা ও পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্কসংলগ্ন গরুর হাট। এসব বাজারে গরুর পাশাপাশি মহিষ, গয়াল, ভেড়া ও ছাগলেরও বেচাকেনা হবে বলে ইজারাদার সূত্রগুলো জানান। তারা জানান, দেশের দূরবর্তী অঞ্চল ও উত্তরবঙ্গ থেকে বিপুলসংখ্যক গরুর চালান আজ-কালের মধ্যেই চট্টগ্রাম মহানগরীতে পৌঁছে যাবে।
