ভ্যাকসিন দিয়ে রোগ নির্মূল কতটা সম্ভব?

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ২২:৪৯

সংক্রামক রোগ থেকে বাঁচার জন্য ভ্যাকসিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গত দুই শতাব্দীতে অনেক ভ্যাকসিন ব্যবহূত হয়েছে। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা গেছে। কিন্তু কোনো রোগকে নির্মূলের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের খুব বেশি কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে গত দুই শতাব্দীতে পৃথিবী থেকে মাত্র দুটি রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে নির্মূল হওয়া রোগ দুটির একটি স্মল পক্স বা গুটি বসন্ত, অন্যটি রাইন্ডারপেস্ট নামে একটি ব্যাধি; যা মূলত গবাদি পশুর হতো।

এই মুহূর্তে পৃথিবীতে অন্তত কয়েক ডজন রোগের টিকা চালু আছে। ভিন্ন ভিন্ন রোগ প্রতিরোধে প্রয়োগ করা হচ্ছে এসব ভ্যাকসিন। এসব ভ্যাকসিনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাফল্য লাভ হলেও এসব রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি বছর বিশ্বে ২০ থেকে ৩০ লাখ শিশুর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বা আইইডিসিআরের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান তাহমিনা শিরিন বলছেন, সংক্রামক ব্যাধি ঠেকানোর জন্য ভ্যাকসিন বা টিকা অত্যাবশ্যক। টিকা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ভ্যাকসিন একটি জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে মানবশরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করতে সহায়তা করে।

কোনো রোগ নির্মূল হওয়া বলতে সাধারণত এক দশক সময়ের মধ্যে বিশ্বের কোনো অঞ্চলেই যখন কোনো একটি রোগের অস্তিত্ব দেখা যাবে না, অর্থাত্ একজন মানুষও আক্রান্ত হবে না, সাধারণত তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করে যে, ওই রোগটি নির্মূল হয়েছে।

অন্য দিকে ছয়টি মহাদেশীয় অঞ্চলের মধ্যে অন্তত চারটিতে যদি কোনো রোগে এক দশক সময়ের মধ্যে যদি কেউ আক্রান্ত না হয়, তাহলে ধরে নেওয়া হয় সেই রোগটি দূর হয়েছে; এই যেমন হাম। পৃথিবীর বেশির ভাগ অংশে এখন আর মানুষের হাম হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হামের টিকা ব্যবহারে এ রোগে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ কমে আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে বর্তমানে পোলিও, টিটেনাস, রুবেলা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস বি এবং এ, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা অর্থাত্ হিব, হাম, হুপিং কাশি, নিউমোকক্কাল ডিজিজ, রোটাভাইরাস, মাম্পস, চিকেন পক্স ও ডিপথেরিয়া দূর হয়েছে বলা গেলেও নির্মূল হয়েছে বলা যায় না। —বিবিসি