বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর মামলা সচল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০০:৫১

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীর আশ্রয় সংক্রান্ত মামলা সচল করেছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। গতকাল শুক্রবার মার্কিন সাময়িকী পলিটিকোর এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রাশেদের আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হঠাত্ করেই ওই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য নথিপত্র পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন উইলিয়াম বার। মামলা সচল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের সুযোগ হারাতে পারেন রাশেদ চৌধুরী। আর সেটা হলে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে তাকে।

পলিটিকোর খবরে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুন অ্যাটর্নি বার রাশেদ চৌধুরীর আশ্রয় পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসকে (বিআইএ) চিঠি দেন। রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবী মার্ক ভ্যান দার হাউট বলছেন, ‘স্পষ্টতই, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশকে একটি ফেভার দিচ্ছে। বহু বছর ধরেই বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যেই বলছে যে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। সরকারের মতে, রাশেদ চৌধুরী একজন ঠাণ্ডা মাথার খুনি। অ্যাটর্নি জেনারেলের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশ সরকার খুশি হবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

রাশেদ চৌধুরী ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এর কিছুদিনের মধ্যে তিনি দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করেন। প্রায় দশ বছর পর একজন অভিবাসন বিচারক তার আশ্রয় আবেদন মঞ্জুর করেন। বিচারকের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ডিএইচএস আইনজীবীদের যুক্তি ছিল সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকায় এই আবেদনকারী আশ্রয় পাওয়ার অযোগ্য। পরে এই মামলাটি চলে যায় মার্কিন বিচার বিভাগের বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসের কাছে। মার্কিন এই বোর্ডটি অভিবাসন বিচারকদের তদারকি করে থাকে। তাদের সিদ্ধান্ত বদলানোর ক্ষমতাও রয়েছে এই বোর্ডের। ২০০৬ সালে এই বোর্ড বিচারকদের পক্ষ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয় যে রাশেদ চৌধুরী আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য।