মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ বিদ্যমান ও আগত সকল ই-সেবা মানুষের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেবে। ইন্টারনেট আজ বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করেছে। বাংলাদেশেও গ্রাম পর্যায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবায় পেমেন্ট সিস্টেম সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম ইন্টারনেট কেন্দ্রিক হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত্। ৯৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুত্ এখন পাচ্ছে। মুজিব বর্ষেই শতভাগ এলাকা বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে।’
বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী গতকাল অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের আটটি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে হাইটেক পার্ক নির্মাণ অত্র এলাকার তরুণ-তরুণীদের আরও ডিজিটালাইজড করে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’ ৮টি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হলেও বাকি ৪টি ইউনিয়নে দ্রুত সংযোগের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের পূর্বেই কেরাণীগঞ্জের সকল প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে কেরাণীগঞ্জবাসীদের জন্য অনলাইন সেবা উন্মুক্ত করতে চাই। স্বল্প দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করে এবং গ্রাম-শহরের বৈষম্য সমতা বিধান করে আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। যা ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এসময়ে তিনি বাংলাদেশে অনলাইন সেবার বিস্তারে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-এর অবদান স্মরণ করে বলেন, তার পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানেই বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘ইনফো-সরকার (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায় ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি প্রান্তিক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্যতম হাবে পরিণত হচ্ছে। সকলের জন্য ইন্টারনেট সেবা, দক্ষ জনবল গঠন, ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে কাজ করছি।’ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-এর তত্ত্বাবধানে বিগত ১১ বছর দেশে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার কারণে গত ৫ মাসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন এমনকি কোরবানির গরুর হাট পর্যন্ত ডিজিটাল প্লাটফর্মে চলে এসেছে। তাই এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন বা কল্পনা নয়, বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রযুক্তির কল্যাণে করোনা মহামারী কালীন সময়ে ঝড় ও বন্যাকবলিত মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এ লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
