আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর নান্দাইবাড়ি-কৃষ্ণপুর-মালঞ্চি বেড়িবাঁধ ভেঙে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে প্রায় ১০টি গ্রাম। প্লাবিত হয়েছে উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা। দ্বিতীয় দফায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকাগুলোতে প্রবেশ করছে পানি। প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চল থেকে বন্যার পানি নেমে না যাওয়ার কারণে আসন্ন আমন মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমানে নিজের বাড়ির উঁচু খলিয়ানকে (আঙিনা) বানিয়েছেন আমন ধানের বীজতলা। যেন বন্যা পরবর্তী সময়ে আমন ধানের চারার সংকট দেখা না দেয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আউশ মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান রোপণ করা হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রায় ২০০ হেক্টর আউশ ধান আক্রান্ত হয়েছে। আউশ শেষে আসন্ন আমন মৌসুমে উপজেলায় আমন ধান চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমি। সেই লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল ৯৫০ হেক্টর আমনের বীজতলা। কিন্তু হঠাত্ হানা দেওয়া বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২৫ হেক্টর বীজতলা। আর পানিতে স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়েছে প্রায় ১২ হেক্টর বীজতলা। এই পরিস্থিতিতে বন্যা পরবর্তী সময়ে যাতে আমন ধানের চারার সংকট না হয় তাই আঙিনায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করছেন কৃষক। ইতিমধ্যেই ১১ হেক্টর উঁচু জমিতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
খট্টেশ্বর গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, বন্যার পানিতে আমার চার বিঘা জমির আউশ ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া আমন ধানের জন্য তৈরি করা এক বিঘা জমির বীজতলাও তলিয়ে গেছে। তাই এখন আবার কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুসারে আমার বাড়ির আঙিনায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের বীজতলার। বন্যার পানি যদি আগস্ট মাসের প্রথম দিকে নেমে যায় তাহলে কৃষকরা ব্রি ধান-৩৪সহ নাবি জাতের আমন ধান রোপণ করতে পারবেন। কারণ এই জাতের ধান একটু দেরিতে রোপণ করলেও ফলনের কোনো সমস্যা হবে না। আশা করছি অক্ষত এবং নতুন করে তৈরি করা বীজতলা দিয়ে চাহিদা পূরণ করা যাবে।
